প্লেটলেট গোনার কোনও ব্যবস্থা নেই জেলায়, ডেঙ্গি আক্রান্তদের অনেককেই রেফার করে দেওয়া হচ্ছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এই অবস্থায়, গত কয়েক দিন ধরে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে কোচবিহারে।

এখনও পর্যন্ত কোচবিহারে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৬০। এর মধ্যে কোচবিহার এমজেএন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পাঁচ জন। বাকিদের বেশিরভাগ মাথাভাঙার। অনেককেই ইতিমধ্যে রেফার করা হয়েছে। কোচবিহার এমজেএন হাসপাতালের সুপার জয়দেব বর্মন বলেন, “ডেঙ্গি পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে হাসপাতালে। কিন্তু প্লেটলেট কাউন্টের ব্যবস্থা আমাদের এখানে নেই। তেমন প্রয়োজন হলে রোগীকে রেফার করতে হচ্ছে।” তিনি জানান, ওই পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাঁরা তা চালু করতে পারবেন বলে তিনি আশবাদী।

কোচবিহার এমজেএন হাসপাতাল তো বটেই বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতেও প্লেটলেট কাউন্টের কোনও ব্যবস্থা নেই। তা মাথায় রেখেই ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যেই গ্রামে গ্রামে প্রচার শুরু করেছেন তাঁরা। তেমন হলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় জেলা হাসপাতালে তো বটেই, মহকুমা ও গ্রামীণ হাসপাতালগুলিতেই জ্বরের রোগীতে ঠাসাঠাসি। হাসপাতালে ভর্তি আজিমন বিবি জানান, “একদিনের বেশি সময় হলেও চিকিৎসক এখনও দেখেননি।”

কোচবিহারের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য আধিকারিক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “জ্বর নিয়ে অনেকেই ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। তবে তার বেশিরভাগ ডেঙ্গি নয়।’’ তিনি জানান, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি আতঙ্ক রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। তাই ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত অনেকেই ভয় পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। কোচবিহার রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মিহির গোস্বামী ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, “ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে জেলায়। যা নিয়ে আমরা চিন্তিত। এই অবস্থায় সক্রিয় ভাবে কাজ করে স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে ব্যবস্থা নেয় সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।’’