অনন্ত-প্রভাব সামলাতে তৃণমূলের অস্ত্র এখন বংশী-অতুল। আগামী ২৫ এপ্রিল কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে জনসভার ডাক দিয়েছেন কেপিপি নেতা অতুল রায়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা। আর মুখ্যমন্ত্রীর সফরের সময়ে তাঁর সঙ্গে আলাদা করে দেখা করতে চাইছেন আর এক গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মন। তিনি গত লোকসভা ভোটের আগেই তৃণমূলকে সমর্থন করেন।

অনন্ত মহারাজ বিজেপির দিকে ঝোঁকায় তাদের যে বাড়বৃদ্ধি হয়েছে এই অঞ্চলে, তার মোকাবিলায় এই জোড়া ফলা ব্যবহার করতে চাইছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

আর কী চাইছে শাসকদল? দলীয় সূত্রে খবর, ২৫ তারিখের সভায় হাজির থাকলে রাজবংশী ও কামতাপুরি ভাষা নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দু’পক্ষের ভাবাবেগকেই মর্যাদা দিতে চেষ্টা করবেন।

তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, গ্রেটার কোচবিহার নেতা অনন্ত রায় (যিনি অনন্ত মহারাজ নামেও পরিচিত) বিজেপিকে সমর্থন করার পরেই কোচবিহারে বিজেপির শক্তি বেড়েছে। গত বছর উপনির্বাচনে তৃণমূলের পার্থপ্রতিম রায় জেতেন ঠিকই, তবে বামেদের টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বিজেপি। রাজবংশী সম্প্রদায়ভুক্ত বেশ কিছু এলাকায় তাদের প্রভাব বেড়েছে। এই অবস্থায় বংশী-অতুলকে সামনে রেখে ওই ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দখলে আনতে তৎপর হয়ে উঠেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমি দিয়েছেন। তার পরেও বিজেপির প্রভাব বেড়েছে। এ বারে তা আটকানো সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে।’’

ভাষা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য এখনও চলছে। বংশীবদন বলেন, “রাজবংশী ভাষা সঠিক বলে আমরা মনে করি।” অতুল বলেন, “ভাষা নিয়ে আন্দোলন আমাদের দীর্ঘ দিনের। মুখ্যমন্ত্রী কামতাপুরি ভাষার স্বীকৃতির কথা জানিয়েছেন।” রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান সাংসদ বিজয় বর্মন বলেন, “আমরা মনে করি রাজবংশী ভাষাই সঠিক। সে কথা আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি।” তৃণমূলের কোচবিহার জেলার এক শীর্ষ নেতা বলেন, “রাজবংশী ও কামতাপুরি দুটি একই বিষয়। মুখ্যমন্ত্রীর সভার পরে সব মিটে যাবে।”

বিজেপি অবশ্য আশাবাদী, এর পরেও তাদের ভোটব্যাঙ্ক অটুট থাকবে। অনন্ত মহারাজের ঘনিষ্ঠ এক গ্রেটার নেতা জানান, তাঁরা বিজেপির সঙ্গে থাকবেন। ভাষা বিরোধের মধ্যে না গিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের উপরেই ভরসা রয়েছে তাঁদের।