শান্তি চাইলে পালান
পৌলমী দাস চট্টোপাধ্যায়ের লেখাটির (‘পুজোর কলকাতা...’, ২৯-১০) খুব প্রয়োজন ছিল। গত দশ বছর ধরে আস্তে আস্তে এই সুন্দর সনাতন উৎসবকে নষ্ট হতে দেখেছি। মনে পড়ে, সত্তর আশি নব্বইয়েও ফেলে আসা দশকের প্রথম কয়েকটা বছর। উত্তর থেকে দক্ষিণ একটা প্রকৃত খুশি ছিল। শৃঙ্খলা ছিল। সামঞ্জস্য ছিল ভিড়েও। শিক্ষা স্বাস্থ্য শিল্প সবই গেছে এই বাংলার। তবুও যেন ১২ পেগ নেশা গিলে এক জান্তব মাতলামিতে মাতে হাল আমলের ৮ থেকে ৬০। এ কোনও দিনই থামবে না। বাড়বে। স্বার্থপরের মতো পূর্বপরিকল্পনা করে কম করেও পনেরো দিনের জন্য কলকাতা ছেড়ে অন্য কোনও পুজোহীন বা কম পুজোর রাজ্যে কিংবা ছোট টাউনে আমাদের মতো মানুষদের আশ্রয় না নিলেই নয়।
নীলাঞ্জন নন্দী। কলকাতা-৭৪
॥ ২ ॥
পৌলমী দাস চট্টোপাধ্যায়ের লেখাটি পড়ে ভাল লাগল। রাত আটটার সময় আট-দশটি ছেলেমেয়ে একসঙ্গে তারস্বরে ভেঁপু বাজিয়ে পাড়াটি কাঁপিয়ে তুলেছে।
আজকাল যত দিন যাচ্ছে ততই দেখা যাচ্ছে এক শ্রেণির লোকের মধ্যে তীব্র আওয়াজের প্রতি প্রেম বাড়ছে। সাইলেন্সার ছাড়া তীব্র আওয়াজে তীব্র গতিতে মোটরবাইক ছোটানো, বাস লরি এমনকী মোটরবাইকেও তীব্র আওয়াজের হর্ন লাগানো তো আছেই। শুধু পুজোয় নয়, অন্য সময়েও। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের প্রতিটি শনিবার সারারাতব্যাপী তারকেশ্বরগামী বাঁক বাহকদের তীব্র আওয়াজপ্রীতির কথা আজ অবধি কোনও কাগজেই সে ভাবে আলোচনা হতে দেখলাম না। শ্রাবণ মাসের প্রতিটি শনিবার সন্ধে থেকে সারা রাত কাতারে কাতারে তারকনাথের ভক্ত(?)রা যে তাণ্ডব চালায়, জিটি রোডের ধারে বসবাসকারীরা তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে থাকেন। এদের মধ্যে প্রকৃত পুণ্যার্থী কত জন? বেশির ভাগ যায় ফুর্তি করতে। আগে থাকত বাঁকে বাঁধা ঘুঙুরের আওয়াজ আর মুখে ভোলে বাবা পার করেগা ধ্বনি। যত দিন যাচ্ছে এগুলি ততই পৈশাচিক রূপ ধারণ করছে। গত বছরে কোনও কোনও দলে দুটি কাঠির সাহায্যে ঢ্যাম ঢ্যাম আওয়াজ শুরু হয়েছিল। এ বছরে তা আরও বেড়েছে। এ বারে আবার পৌলমীদেবী বর্ণিত ভেঁপুও চালু হয়ে গেছে। সামনের বছর হয়তো দেখা যাবে প্রতিটি দলেই ঢ্যাম ঢ্যাম বাজনা ও ভেঁপুর ব্যবহার। আর শিবের প্রিয় বাজনা ডমরুই বা বাদ থাকে কেন?
এই অত্যাচারের হাত থেকে নিষ্কৃতির কি কোনও পথ নেই?
তপনকুমার মল্লিক। রিষড়া, হুগলি
চাষিদের কথা শুনুন
আপনার কাগজে গত ৩০ অক্টোবর চাষিদের জল পাওয়ার দুরবস্থা সম্পর্কিত প্রতিবেদনের সম্বন্ধে এক জন সাধারণ চাষি হিসাবে দু’একটা কথা জানাই। মাননীয় সরকার মহোদয় তো অনেক আগেই জানত আমরা এই সময় ডি ভি সি-র জল এ বার পাব না। কেন তারা এমন বলছে যখন ধানে ফুল এসেছে। কৃষি দফতর আগে জানালে আমরাই ব্যবস্থা করে নিতাম। মন্ত্রিমহাশয় আবার ১০০টি পাম্প দেওয়ার গল্প বলেছেন। ওঁর তো কোনও ধারণাই নেই, একটা পাম্প বসাতে ও তার বিদ্যুৎসংযোগ ঘটাতে কত সময় লাগে বা সে কতটা জমিতে জল দিতে পারে। মন্ত্রী বলেছেন বলে ধান তত দিন জল দেওয়া বন্ধ রাখবে। আর মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টার মৌজা সম্বন্ধে জ্ঞানের তুলনা হয় না। এই জলের অভাবে আমাদের জেলার কম করে ৮০০-৯০০ মৌজা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি অনেক অঙ্ক করে বলেছেন মাত্র ৪১৩টা।
কী বলব এই সরকারকে। ধান শুকিয়ে যাচ্ছে আর কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি উপদেষ্টারা ঠান্ডা ঘরে বসে পরিকল্পনা করছেন মাটি উৎসব, জল উৎসব, সাইকেল উৎসবের। মুখ্যমন্ত্রীর দলে কি চাষির ঘরের কোনও যোগ্য ছেলেমেয়ে নেই? আমরা চাষিরা এ সব চাই না, দয়া করে একটু সময় মতো ভাল সার বীজ ও জলের ব্যবস্থা করে দিন। তাতেই আমরা খুশি। কোনও খয়রাতি বা উৎসবের প্রয়োজন নেই আমাদের।
বিভূতিভূষণ ঘোষ। রায়না-২,বর্ধমান