ধোঁকাবাজি! পাকিস্তানের বাবর-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণের ভিডিও নিয়ে এ কথাই বলছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, কম্পিউটারে পুরনো ফুটেজের বিভিন্ন অংশ জুড়ে বাবর-৩ উৎক্ষেপণের সাফল্য দাবি করেছে ইসলামাবাদ। নৌসেনা সূত্রেরও মত, ওই ভিডিও ভুয়ো হতেই পারে।

গত কাল পাকিস্তান জানায়, ভারত মহাসাগরের অজ্ঞাত কোনও স্থান থেকে বাবর-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে। ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার বাবর-৩ পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম। পাক সামরিক সূত্রে দাবি করা হয়, বাবর-৩-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হওয়ায় জল, স্থল ও আকাশ থেকে পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষমতা হাতে পেল ইসলামাবাদ।

কিন্তু আজ পাকিস্তানের প্রকাশিত বাবর-৩-এর ভিডিও বিশ্লেষণ করেই বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে বের করেছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। পঠানকোটের এক বিশেষজ্ঞ এ নিয়ে বেশ কয়েকটি টুইট করেছেন। তাঁর দাবি, ওই উৎক্ষেপণের যে ভৌগোলিক অবস্থান দেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখলে দেখা যাচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি ছিল ঘণ্টায় ৬৭৫০ কিলোমিটার। এই গতি অবিশ্বাস্য। আবার পাক ভিডিও-য় সাত সেকেন্ডের মাথায় ক্যানিস্টার (ক্ষেপণাস্ত্রের আধার) ছেড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে বাবর-৩-কে। ওই বিশেষজ্ঞের দাবি, অত বেশি সময় ধরে বাবর-৩-এর ক্যানিস্টারে থাকার কথাই নয়। আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল বিনায়ক ভট্টের দাবি, ভিডিও-র একটি দৃশ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের রং সাদা থেকে বদলে কমলা হয়ে যাচ্ছে।

বাবর-৩-এর ওই ভিডিও নিয়ে সন্দিহান ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও। মন্ত্রক সূত্রে খবর, গতকাল ভারত মহাসাগরে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার চিহ্ন খুঁজে পায়নি নৌসেনা। পাকিস্তান দাবি করেছে, একটি ডুবোজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছিল। কিন্তু নৌসেনার বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটেজে দেখানো ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছে জলের নীচে থাকা কোনও স্থির মঞ্চ (প্ল্যাটফর্ম) থেকে। নৌসেনা সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম আগস্টা ডুবোজাহাজে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এখনও শুরুই হয়নি।

সম্প্রতি ‘আইসিবিএম’ শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে ভারত। কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় চিন। সেনা সূত্রে খবর, এতে উদ্বিগ্ন হয় পাকিস্তানও। তাই ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পাকিস্তান ভুয়ো ভিডিও-র পথে হেঁটেছে কি না, প্রশ্ন সেটাই।