টানা দশ মাস গৃহবন্দি থাকার পরে গত নভেম্বরে তাঁকে মুক্তি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তাঁর গৃহবন্দিত্বের জন্য এত দিন ভারত আর আমেরিকার সরকারকে দুষে এসেছেন তিনি। সরাসরি অভিযোগ করে এসেছেন, এই দুই সরকারের চাপেই তাঁকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল তাঁর দেশের সরকার। হঠাৎই সুর পাল্টালেন জামাত-উদ-দাওয়া প্রধান তথা মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী হাফিজ সইদ। এ বার গৃহবন্দিত্বের জন্য দায়ী করলেন নিজের দেশের সরকারকেই। জানালেন, অন্য কোনও দেশের সরকারের হাত ছিল না এতে।

লাহৌরে কাল এক অনুষ্ঠানে হাফিজ বলেছেন, ‘‘মোদী সরকার নয়। আমাদের নিজেদের দেশের সরকারই দশ মাস আমায় বন্দি করে রেখেছিল। কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে আমি যাতে কোনও কথা বলতে না পারি, তা-ই এই ব্যবস্থা।’’ তবে সেই সঙ্গেই তাঁর বক্তব্য, সাধারণ কাশ্মীরিদের উপরে অত্যাচার নিয়ে ইসলামাবাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক স্তরে সরব হওয়া উচিত। তাদের উচিত কাশ্মীরের মানুষের স্বাধীনতা নিয়ে ভাবা। তাঁর কথায়, ‘‘আমি তো এটাই বুঝতে পারছি না, কাশ্মীরিদের আত্মত্যাগকে কেন অবহেলা করছে পাক সরকার। প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খকন আব্বাসির তো উচিত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজের মন্ত্রিসভার অন্তত পাঁচ জন সদস্যকে নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের দফতরের বাইরে বসে ধর্না দিয়ে কাশ্মীরিদের পাশে দাঁড়ানো।’’

মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত জঙ্গি নেতা হাফিজের মাথার দাম এক কোটি ডলার করে ট্রাম্প প্রশাসন। সেই হাফিজকেই গত ২৪ নভেম্বর মুক্তি দেয় পাক সরকার। এই সিদ্ধান্তে যথেষ্ট ক্ষোভ জানায় ভারত। ট্রাম্প প্রশাসনও অসন্তুষ্ট ছিল। হাফিজ অবশ্য চটেছেন দেশের সংবাদমাধ্যমের উপরও। তাঁর দাবি, পাক সাংবাদিকরা এখন ভারতের সুরে কথা বলছে। তাঁর কথায়, ‘‘কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে আমি কোনও কথা বললেই পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমেরই একাংশ আমায় জঙ্গি বলে ডাকে। এটা সত্যিই দুঃখের।’’