ঢাকায় বড়দিন ও ইংরেজি বর্ষবরণের উৎসবে হামলার জন্য জঙ্গিরা বেশ বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছিল বলে জানাচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দারা। বিমানবন্দরের পাশে আশকোনার জঙ্গি ডেরায় রবিবার তল্লাশি চালিয়ে ১৯টি গ্রেনেড ছাড়াও বিস্ফোরক তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাওয়া গিয়েছে আত্মঘাতী হামলায় ব্যবহারের জন্য দু’টি বিস্ফোরক ভর্তি জ্যাকেটও। শুক্রবার রাতে পুলিশ ডেরাটি ঘিরে ফেলার পর প্রচুর কাগজপত্র, ল্যাপটপ, মোবাইল ও প্রায় ১২ লক্ষ টাকা পুড়িয়ে নষ্ট করেছে জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের দাবি, নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য ঢাকায় আরও একটি বড় হামলা করার পরিকল্পনা ছিল নব্য জেএমবি জঙ্গিদের।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত অভিযানের পর আশকোনার বাড়িটি থেকে উদ্ধার দুই জঙ্গির দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে এক মহিলা জঙ্গি শরীরে বাঁধা বিস্ফোরক ফাটিয়ে আত্মঘাতী হয়। ঢাকায় এই প্রথম আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটাল জঙ্গিরা। ওই মহিলা জঙ্গির সঙ্গে থাকা একটি ছোট মেয়ে স্‌প্লিন্টারে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, বছর চারেকের মেয়েটি আত্মঘাতী মহিলা জঙ্গির আগের পক্ষের সন্তান। শনিবার রাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপারেশন করে ডাক্তাররা শিশুটির দেহ থেকে বিস্ফোরকের টুকরোগুলি বার করেন।

নিহত আর এক জঙ্গির পরিচয়ও পুলিশ এ দিন জানিয়েছে। তার বাবা তানভির কাদরি নব্য জেএমবি-র নেতা। বিস্ফোরক ব্যবহারে পটু এই কিশোর জঙ্গিকে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল। মৃত্যুর সময়েও তার হাতে পিস্তল ধরা ছিল। শনিবার দুই মহিলা জঙ্গি তাদের দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে আত্মসমর্পণ করে। এদের এক জন জেবুন্নাহার শীলা পুলিশের গুলিতে নিহত জঙ্গিনেতা মেজর জাহিদের স্ত্রী। সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে নব্য জেএমবি-র নেতা হয়েছিল এই জাহিদ।