অবশেষে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথা নত করল পাকিস্তান। মঙ্গলবার মুম্বই হামলার মূল চক্রী তথা জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সইদকে জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করল পাক সরকার। ঘটনাচক্রে, এ দিনই পাকিস্তানকে বড়সড় আর্থিক অনুদানের ঘোষণা করেছে আমেরিকা।

গত জানুয়ারির গোড়াতেই পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদীদের মদতদাতা’ তকমা দিয়েছিলেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগে ১১৫ কোটির ডলারের আর্থিক অনুদানও আটকে দিয়েছিল তাঁর সরকার। সে সময় আমেরিকা জানিয়েছিল, ইসলামাবাদ সন্ত্রাসে মদত বন্ধ করলেই ওই অনুদান আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বদলের কথা ভাবনা-চিন্তা করা হবে। কাকতালীয় ভাবে, এ দিনই একটি অধ্যাদেশ জারি করে হাফিজকে ‘জঙ্গি’ তকমা দেন পাক প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেন।

আগেই অবশ্য লস্কর-ই-তইবা, জামাত-উদ-দাওয়া এবং হরকত-উল-মুজাহিদিনের মতো জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। এ দিনের অধ্যাদেশে সেই সমস্ত সংগঠনকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। অন্য দিকে, আগামী অর্থবর্ষের বাজেটে পাকিস্তানকেই সাড়ে ৩৩ কোটি ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে আমেরিকা। উদ্দেশ্য, স্থিতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পাক ভূখণ্ডে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের রাস্তা সুগম করা।

মার্কিন কংগ্রেসের ভারতীয় সময়ে মঙ্গলবার আগামী অর্থবর্ষের জন্য বাজেট পেশ করে ট্রাম্প সরকার। আমেরিকায় আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবর্ষ। মার্কিন কংগ্রেসের পেশ করা বাজেট প্রস্তাবে পাকিস্তানের জন্য সামরিক খাতে বরাদ্দ করা রয়েছে ৮ কোটি ডলারের অনুদান। বাকি ২৫.৬ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে অসামরিক খাতে।

আরও পড়ুন: পাল্টা ডেমোক্র্যাট নথি প্রকাশে বাগড়া

আরও পড়ুন: বন্দিত্বের জন্য দায়ী পাকিস্তানই: হাফিজ

পাক ভূখণ্ডে ঘাঁটি গড়ে তোলা সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে বাড়বাড়ন্ত রুখতে আগেই কড়া মনোভাব নিয়েছিল আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল, পাক সরকারকে ওই ঘাঁটিগুলি নির্মূল করতে হবে। এ ছাড়া, গোপনে সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক মদতও দিতে পারবে না পাকিস্তান। সেই সঙ্গে আফগানিস্তানের তালিবান বা হক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আমেরিকা। এই পদক্ষেপ করলে তবেই নিরাপত্তা সহায়ক আর্থিক প্যাকেজ পাবে বলে জানিয়েছিল মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক।

পাকিস্তানকে অনুদান প্রসঙ্গে এ দিন বাজেটে হোয়াইট হাউসের তরফে বলা হয়েছে, পাকিস্তানকে ২৫.৬ কোটি ডলারের বরাদ্দে ওই ভূখণ্ডে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নও বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানে মার্কিন ব্যবসার সুযোগও তৈরি হবে। আমেরিকার মতে, জঙ্গিদমনেও পাক সরকারের কাজে আসবে সামরিক খাতে বরাদ্দ করা ৮ কোটি ডলারের অনুদান।

আরও পড়ুন: #নারীবিদ্বেষী, কংগ্রেসের ভিডিওয় কটাক্ষ বিজেপির
আরও পড়ুন: আবু ধাবিতে প্রথম মন্দির, শিলান্যাস করলেন মোদী

মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সুরক্ষার বজায় রাখতে পাকিস্তান ছাড়াও আফগানিস্তানকেও আর্থিক মদতের প্রস্তাব করা হয়েছে এই বাজেটে। তালিবান, আল-কায়দা এবং আইএসের বিরুদ্ধে আফগান সরকারের লড়াইয়ে সাহায্যের জন্য সে দেশকেও ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দেবে আমেরিকা। ওই অর্থের মাধ্যমে আফগান নিরাপত্তারক্ষাদের সামরিক প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাবে মার্কিন সেনা।