বেনজির চড়া সুর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। পাকিস্তানের দ্বিচারিতা আর বরদাস্ত করা হবে না। মার্কিন অনুদান গ্রহণ এবং সন্ত্রাসে মদত একসঙ্গে চলতে পারে না, ঘোষণা করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যে ভাষায় পাকিস্তানকে আক্রমণ করলেন তিনি, তা আমেরিকা-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে টুইটারের মাধ্যমে। নতুন বছরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম টুইটই জবরদস্ত ধাক্কা দিয়েছে পাকিস্তানকে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘গত ১৫ বছর ধরে আমেরিকা বোকার মতো পাকিস্তানকে ৩৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবং তারা মিথ্যাচার এবং প্রতারণা ছাড়া কিছুই আমাদের দেয়নি, আমাদের নেতাদের তারা বোকা ভেবেছে। তারা সেই সব সন্ত্রাসবাদীকে নিরাপদ আশ্রয় দেয়, যাদের বিরুদ্ধে আমরা আফগানিস্তানে লড়ছি...। আর নয়!’’

পাকিস্তানকে যা অনুদান দেওয়া হয়ে গিয়েছে, আপাতত তাতেই ইতি টেনে দিতে পারে আমেরিকা। সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত অর্থিক অনুদান পাওয়ার অভ্যাস ভুলে যাক পাকিস্তান। টুইটে এমন বার্তাই দিতে চেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলছেন কূটনীতিকরা।

আরও পড়ুন: চিন সব আন্তর্জাতিক ইস্যুতে হস্তক্ষেপে প্রস্তুত, বার্তা শিয়ের

এর আগেও অনেক বার ওয়াশিংটন থেকে সতর্কবার্তা গিয়েছে ইসলামাবাদে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যই পাক বাহিনীকে শক্তিশালী করছে আমেরিকা, অনুদান পেতে গেলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতেই হবে— এ কথা একাধিক বার পাকিস্তানকে আমেরিকা বলেছে। শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নন, তাঁর পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট ওবামার আমল থেকেই এই হুঁশিয়ারি শোনানো হচ্ছে পাকিস্তানকে। ট্রাম্প জমানায় সে সুর আরও চড়া হয়। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।

আরও পড়ুন: পরমাণু বোমার বোতামটা আমার হাতেই থাকে: কিম

আমেরিকা যে কঠোর পদক্ষেপ করবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু ২০১৮-র প্রথম দিনেই এ ভাবে আসবে ধাক্কাটা, তা সম্ভবত পাকিস্তান বুঝতে পারেনি। তবে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এটাই আমেরিকার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নয়। যে বিপুল অঙ্কের আর্থিক সাহায্য ইতিমধ্যেই পাকিস্তান নিয়েছে, তার বিনিময়ে কিছু প্রতিদান পাকিস্তানকে দিতেই হবে। সন্ত্রাসে যে ভাবে পাকিস্তান মদত দিচ্ছে, তা বন্ধ না হলে, অদূর ভবিষ্যতেই আরও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারে আমেরিকা।