কারও ডাকে সাড়া দেওয়া মানে বন্ধুত্বে সায়। আর শত্রুর ‘বন্ধু’ তো শত্রুই!

ভারতের চোখে সমীকরণটা আপাতত এমনই। ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদের ডাকা জনসভায় যোগ দিয়ে রাতারাতি বিতর্কে জড়ালেন পাকিস্তানে নিযুক্ত প্যালেস্তাইনি দূত ওয়ালিদ আবু আলি। ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। আজ প্যালেস্তাইন এ নিয়ে সরকারি ভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছে। এমনকী বিতর্কিত ওই রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে সে দেশের তরফে। তবু বরফ গলছে কই!

জেরুসালেম-বিতর্কে সম্প্রতি প্যালেস্তাইনের পক্ষে দাঁড়িয়েই রাষ্ট্রপুঞ্জে ভোট দিয়েছিল ভারত। কূটনীতিকদের দাবি— ইজরায়েল তো বটেই, এতে নিজের ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার’ আমেরিকাকেও চটানোর ঝুঁকি নিয়েছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু তার এই প্রতিদান! লস্কর-প্রধান হাফিজের মঞ্চে আবু আলির হাজিরা নিয়ে ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লিতে প্যালেস্তাইনি রাষ্ট্রদূতের কাছে জবাবদিবি তলব করেছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। বার্তা গিয়েছে রামাল্লাতেও।

যার পরেই বিষয়টি নিয়ে তারা ‘অনুতপ্ত’ বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সরকার। বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখে প্যালেস্তাইন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও তারা ভারতের পাশে বলে নয়াদিল্লিকে জানিয়েছে রামাল্লা।

আবু আলিকে তা হলে হাফিজের সঙ্গে এক ফ্রেমে দেখা গেল কেন? গত কাল রাওয়ালপিন্ডিতে ওই সভার ডাক দিয়েছিল হাফিজের দল-সহ পাকিস্তানের একগুচ্ছ কট্টরবাদী সংগঠনের মঞ্চ দিফা-ই-কাউন্সিল।  জেরুসালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিবাদেই একজোট হয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।

কিন্তু হাফিজকে যে হেতু ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’-র তকমা দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ, তাই আলির ওই সভায় থাকাটা একেবারেই ভাল চোখে দেখছে না নয়াদিল্লি। ভারতের বিরুদ্ধে প্রায় রোজই তোপ দেগে চলেছেন জামাত-প্রধান। হাফিজের বিরুদ্ধে কাশ্মীর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এমনকী শোনা যাচ্ছে, কালকের ওই সভাতেও ভারতের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন মুম্বই হামলার মূল চক্রী।

তাই পাক জঙ্গি-নেতার সঙ্গে প্যালেস্তাইনি কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য সহাবস্থানে বিরক্ত ‘ইন্ডিয়া-প্যালেস্তাইন সলিডারিটি ফ্রন্ট’ (আইপিএসএফ)। এর জেরে ওই রাষ্ট্রদূতকে ছেঁটে ফেলার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। আজ বিবৃতি দিয়ে আইপিএসএফ বলেছে, ‘‘রাষ্ট্রপুঞ্জের সব প্রস্তাব মেনে ভারত বরাবরই প্যালেস্তাইনের পাশে দাঁড়িয়েছে। এমনকী স্বাধীন রাষ্ট্র আর পূর্ব জেরুসালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে চেয়ে ওরা যে লড়াইটা করছে, তাতেও সায় দিয়েছি আমরা। কিন্তু এটা কী হল?’’

বিতর্ক ঝেড়ে ফেলতে বিষয়টি নিয়ে যথাযথ তদন্ত এবং পদক্ষেপ করা হবে বলে নয়াদিল্লিকে আশ্বাস দিয়েছে প্যালেস্তাইন। দিল্লিতে নিযুক্ত প্যালেস্তাইনি রাষ্ট্রদূত আদনান আবু আল হাইজা জানান, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই ও ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষার তাগিদেই আবু আলিকে দ্রুত রামাল্লায় ফিরিয়ে আনা হবে।