সদ্য মাথায় চেপেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া। তাই ভয়ঙ্কর তেতে রয়েছে কিম জং উনের দেশ। নিষেধাজ্ঞার মূল হোতা আবার আমেরিকা। তাই রাগের কারণ আরও বেশি। তাই আমেরিকাকে এ বার আরও কড়া বার্তা উত্তর কোরিয়ার। নিষেধাজ্ঞার পরে বুধবার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় রীতিমতো হুঙ্কারের সুরে কিম প্রশাসনের দাবি, ‘আমেরিকা এ বার এমন যন্ত্রণা পেতে চলেছে, যা জীবনে ওরা ভোগ করেনি!’

উত্তর কোরিয়ার এই ‘দাপটে’র মধ্যেই আঁটঘাট বাঁধছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার তারা ফের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। ‘স্পার্টান ৩০০০’ নামে একটি ‘নিধন-বাহিনী’ও তৈরি করেছে তারা। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, এরা রাতের অন্ধকারে হামলা চালিয়ে কিমের দলকে কাবু করার ক্ষমতা রাখে। বুধবারই আবার দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, এ মাসের গোড়ায় কিমের দেশের পরমাণু পরীক্ষার পরে তারা তেজস্ক্রিয় জেনন গ্যাসের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে। তবে এই পরীক্ষাতেই হাইড্রোজেন বোমা ফাটানো হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত নয় দক্ষিণ কোরিয়া। যদিও এ মাসের গোড়ায় হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ নিয়েই হইচই ফেলে দিয়েছিল পিয়ংইয়ং।

এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের নয়া নিষেধাজ্ঞার জেরে তাদের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা। বুধবার তাদের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমেরিকা যে ভাবে আমাদের উপরে আরও একটা অনৈতিক ও ক্ষতিকর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর জন্য তদ্বির করেছে, তা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, আমরা যে পথে হাঁটছি, সেটাই সঠিক পথ।’ মন্ত্রকের দাবি, ‘‘দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে আমরা শক্তি বৃদ্ধির দ্বিগুণ চেষ্টা চালাব।’’ তেল আমদানি থেকে শুরু করে বস্ত্র রফতানি, কয়লা-সিসা উৎপাদন— এ সব ক্ষেত্রে কিমের উপরে নয়া নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। যা জানার পরে প্রথম প্রতিক্রিয়া মিলেছে জেনিভায় পিয়ংইয়ংয়ের দূত হান তায়ে সংয়ের কাছ থেকে। তাঁর কথায়, ‘‘কড়া ভাষায় এর নিন্দা করছি। আর এই বেআইনি নিষেধ আমরা মানছি না।’’ তার পরেই হানের হুঙ্কার, ‘‘এ বার উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপে আমেরিকা এমন যন্ত্রণা পাবে যা অতীতে ওরা কখনও পায়নি।’’

জবাবে আমেরিকার প্রতিক্রিয়া না মিললেও কিমের প়ড়শি দেশ দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, স্পার্টান ৩০০০ বাহিনীর কথা। এটি তৈরি হয় গত বছর। কোরীয় উপদ্বীপের যে কোনও অংশে এক দিনেই হামলার জন্য তৈরি হতে পারে বাহিনী। গত বছর আমেরিকার সঙ্গে যৌথ মহড়া দিয়েছে তারা। সোলের সংবাদমাধ্যমের দাবি, মূলত উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেনা ঘাঁটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই তৈরি হয়েছে স্পার্টান ৩০০০।

বুধবার সোলের সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার মহড়ায় একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে টরাস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (জার্মানির তৈরি) ছুড়েছে তারা। ৫০০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা নিশানাকে অব্যর্থ আঘাতে সক্ষম এটি। উপরি পাওনা, এতে এমন প্রযুক্তি রয়েছে যার ফলে এটি শত্রুপক্ষের রেডারে ধরাও পড়বে না।