দু’তরফের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়েছিল দিন কয়েক আগে। উত্তর কোরিয়া আর আমেরিকা। একে অপরের বিরুদ্ধে কার্যত মৌখিক যুদ্ধ ঘোষণা করেই দিয়েছে। দু’দেশের মধ্যস্থতায় চিনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। এ বার খোদ চিনা প্রেসিডেন্ট ফোন করে সংযত থাকার অনুরোধ জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে। শি চিনফিং এ-ও বলেছেন, কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতাবস্থা আনতে দু’দেশের অবিলম্বে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলা বন্ধ করা উচিত। শি জানিয়েছেন, কোরীয় সমস্যার সমাধানে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করতে সব সময় রাজি বেজিং।

উত্তর কোরিয়ার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার শাস্তি হিসেবে সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে কিছু নতুন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ওয়াশিংটন। গোলমালের সূত্রপাত সেখান থেকেই। উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন তার পর থেকেই আমেরিকাকে শাসিয়ে আসছেন। খুব সম্প্রতি তিনি সরাসরি মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। যার জেরে পাল্টা হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। হামলা হলে উত্তর কোরিয়াকে অনুতাপ করতে হবে বলে প্রথমে টুইট করেছিলেন তিনি। কাল ফের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে টুইট করেন তিনি। লেখেন, মার্কিন সেনারাও প্রত্যুত্তর দিতে তৈরি আছেন।

আরও পড়ুন: শ্বেতাঙ্গ মিছিল ঘিরে অশান্তি ভার্জিনিয়ায়

তার প্রেক্ষিতেই আজ ট্রাম্পকে ফোন করেন শি। ট্রাম্প এখন ছুটি কাটাচ্ছেন। তার মধ্যেই দু’জনের বেশ খানিকক্ষণ কথা হয় এ নিয়ে। চিনা সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার নেতাকেও সংযত থাকার অনুরোধ করেছেন শি। জানিয়েছেন, এই ধরনের সমস্যার সমাধানে কূটনীতির বিকল্প কোনও রাস্তা নেই। অবিলম্বে দু’দেশের নেতারা যাতে আলোচনায় বসেন, সেই আর্জিও জানিয়েছেন শি। সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে আমেরিকার পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। চিনফিংয়ের পাশাপাশি আজ ট্রাম্পের সঙ্গে এ কই বিষয়ে ফোনে কথা বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ-ও।

ট্রাম্প-কিম তরজা পর্বে এত দিন সে ভাবে মুখ খোলেনি বেজিং। অনেকেই অভিযোগ করছিলেন, বন্ধুত্বের খাতিরেই কিমের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করছে না বেজিং। কাল চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিকের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল, নিজে থেকে যুদ্ধে গেলে উত্তর কোরিয়ার পাশে থাকবে না বেজিং। আজ আর এক ধাপ এগোলেন চিনা প্রেসিডেন্ট।

এ বছরের শেষেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন সফরের কথা রয়েছে। ফোনে আজ সে প্রসঙ্গও তুলেছেন শি। আমেরিকা আর চিনের বন্ধুত্ব তাতে আরও দ়ৃঢ় হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। চিনা প্রেসিডেন্টের ফোনের জবাবে ট্রাম্প কী বলেছেন, সরকারি ভাবে এখনও জানায়নি হোয়াইট হাউস। তবে চিনা সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, কোরীয় সমস্যা সমাধানে বেজিংয়ের সদর্থক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। শি-এর আর্জিতে কিম কতটা সাড়া দেন, সেটাই দেখার।