প্রেমের প্রস্তাবে সায় দেননি। তাই বাড়ির বাইরে ডেকে এনে এক তরুণীর গায়ে আগুন লাগিয়ে দিল তাঁরই প্রাক্তন সহপাঠী! যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে পুড়ে মারা গেলেন ওই তরুণী। সোমবার রাত ৯টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে চেন্নাইয়ের আদামবাক্কাম এলাকায়। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন ওই তরুণীর মা এবং বোন। দু’জনেই চিকিৎসাধীন।

পুলিশ সূত্রে খবর, এস ইন্দুজা নামে বছর বাইশের ওই তরুণী পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। ধৃত যুবক বিজ্ঞানের স্নাতক। সে ইন্দুজার সহপাঠী ছিল। তরুণীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক মাস ধরে ওই যুবক ইন্দুজাকে উত্যক্ত করতে শুরু করে। ইন্দুজাকে প্রেমের প্রস্তাব জানায়। কিন্তু, ওই তরুণী তাতে রাজি ছিলেন না। বার বারই তিনি ওই যুবককে ফিরিয়ে দেন।

আরও পড়ুন: যৌন ভিডিও: সত্যি হল হার্দিকের আশঙ্কাই, তবে পাশে দাঁড়ালেন জিজ্ঞেসরা

প্রেমে প্রত্যাখ্যান হওয়াটা মেনে নিতে পারেনি ওই যুবক। সোমবার রাত পৌনে ৮টা নাগাদ সে ইন্দুজার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয় সে। বাড়িতে তখন ইন্দুজা, তাঁর মা এবং বোন ছিলেন। কর্মসূত্রে তাঁর বাবা ছিলেন বাইরে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবক ইন্দুজার নাম ধরে চিৎকার শুরু করে। তাঁর মা আর বোন বাইরে এসে যুবকের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু সে ইন্দুজার সঙ্গে কথা বলতে চায়। ওই যুবকের আচরণ খুব একটা স্বাভাবিক ছিল না। তাই তাকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেয় ইন্দুজার পরিবার।

এর পরেই ওই যুবক ঘরে ঢুকে ইন্দুজাকে জোর করে বাইরে নিয়ে আসে। তখন তাঁর মা আর বোন ভিতরে ছিলেন। কথা বলার অছিলায় ইন্দুজার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়ে চম্পট দেয় ওই যুবক। ইন্দুজার আর্তনাদ শুনে তড়িঘড়ি বাইরে বেরিয়ে আসেন তাঁর মা আর বোন। ইন্দুজার শরীর তখন দাউদাউ করে জ্বলছে। তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। মেয়েকে বাঁচাতে গেলে তাঁদের গায়েও আগুন লেগে যায়। শেষমেশ প্রতিবেশীরা এসে তিন জনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা ইন্দুজাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মায়ের দেহ ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। বোন আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন।