মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য হাতে রয়েছে আর মাত্র দশ দিন। কিন্তু এখনও সর্বসম্মত প্রার্থী ঘোষণা করে উঠতে পারল না কেন্দ্রের শাসক দল। আর বিজেপির হাতের তাস না দেখে প্রার্থী ঘোষণার পথে হাঁটছে না বিরোধী শিবিরও।

লড়াই এড়িয়ে সর্বসম্মত প্রার্থী বেছে নেওয়ার লক্ষ্যে গত শুক্রবার সনিয়া গাঁধী ও সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু সেখানে কোনও অগ্রগতি হয়নি। এর পরে গত কালই মুলায়ম সিংহ যাদব বিজেপি প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানানোয় কিছুটা নিশ্চিন্ত হয় বিজেপি। অরুণ জেটলি গত কালই বিদেশ থেকে ফিরেছেন। আজ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বাছাই কমিটির সদস্য হিসেবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন তিনি। এ দিকে দার্জিলিঙের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাজনাথ সিংহের সঙ্গেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কথা হয় মমতার। ঘটনাচক্রে তিনিও রয়েছেন বিজেপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বাছাই কমিটিতে। দুই নেতাই সর্বসম্মত প্রার্থী দাঁড় করানোর প্রশ্নে মমতার সমর্থন চান। তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, মুলায়মের মতো এনডিএ প্রার্থীকে সমর্থন করে বিরোধী ঐক্য ভাঙার পথে হাঁটবেন না তাঁরা। শাসক দল প্রার্থীর নাম জানালে তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলের এক নেতা বলেন, ‘‘বিরোধী জোট এখনও এক জোট হয়ে প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে। সর্বসম্মত প্রার্থীর প্রশ্নে শাসক দল কার নাম দেয়, সেটা দেখে পদক্ষেপ করা হবে।’’

বিরোধীদের কাছে টানার চেষ্টার মধ্যেই ঘর গোছাতে শরিক শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে মুম্বইয়ে গিয়ে বৈঠক করেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। প্রথমে প্রণব মুখোপাধ্যায়, পরে মোহন ভাগবতের নাম তুলে চাপ বাড়িয়েছিল শিবসেনা। আজ উদ্ধবের সঙ্গে বৈঠকে এনডিএ-র প্রার্থী নির্বাচনের অধিকার প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন অমিত। সেই প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করেন উদ্ধব। প্রয়োজনে তাঁরা আগের দু’বারের মতো নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে বলেও জানান তিনি। কাল মুলায়মকে পাশে পাওয়ায় বিরোধী শিবিরে কিছুটা হলেও ভাঙন ধরাতে সক্ষম হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু আজ শিবসেনার অবস্থানে নিজেদের ঘরেই ভাঙনের ইঙ্গিত পাচ্ছে বিজেপি।