শরীরের বাইরে হৃদপিণ্ডটা ধুকধুক করছে, বিরল রোগে আক্রান্ত এমনই এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন মধ্যপ্রদেশের এক মহিলা। চিকিত্সাশাস্ত্রে এই রোগের নাম ‘এক্টোপিয়া কর্ডিস’। চিকিত্সকরা জানান, এমন ঘটনা ১০ লাখে ৮টি হয়।

অরবিন্দ পটেল, মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোর বাসিন্দা। তিনি খাজুরাহো মন্দিরে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন। গত ৫ এপ্রিল তাঁর স্ত্রী স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সন্তানের জন্মের পরই পটেল পরিবারের আনন্দ বেদনাতুর হয়ে ওঠে। দেখা যায়, সদ্যোজাত সন্তানটির বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে হৃদপিণ্ড। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিত্সকরা শিশুটিকে ছতরপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেখানে অরবিন্দবাবুকে চিকিত্সকরা জানান, অস্ত্রোপচার করতে ২৫-৩০ লক্ষ টাকা লাগবে। সামান্য নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করে এত টাকা জোগাড় করবেন কী ভাবে! এই ভেবেই অস্থির হয়ে পড়েন তিনি। শিশুটির অবস্থার অবনতি হওয়ায় ছতরপুর হাসপাতাল থেকে গ্বালিয়রে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ভোপালের এইমস-এ।

 আরও পড়ুন:  ফ্লপ প্রোডাক্টের মি‌উজিয়ম খুলছে সুইডেনে

একমাত্র মেয়ের চিকিত্সার জন্য অর্থ জোগাড়ে প্রাশসনের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন অরবিন্দবাবু। দেখা করেন ছতরপুরের জেলাশাসকের সঙ্গে। তাঁর পরিস্থিতির কথা জানিয়ে জেলাশাসকের কাছে সাহায্য চান তিনি। জেলাশাসক অরবিন্দবাবুকে সরকারি সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানা গিয়েছে।

‘এক্টোপিয়া কর্ডিস’ কী?

চিকিত্সকরা জানান, এটা এক ধরনের কনজেনিটাল ম্যালফর্মেশন। যার ফলে হৃদপিণ্ডের কিছুটা অংশ বক্ষপিঞ্জরের বাইরে বেরিয়ে যায়। ভ্রূণের গঠনে পরিপূর্ণতা না হলেই এই ঘটনা ঘটে। সফল অস্ত্রোপচারও হয়েছে এই ধরনের রোগের। কিন্তু বাঁচার সম্ভাবনা কম থাকে শিশুর।