ক্লাসের সব চেয়ে মেধাবী পড়ুয়ার ক্যানসার। তা জেনে হতবাক হয়েছিল রাঁচীর ধুরুয়ার বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের সহপাঠীরা।
সাহায্যের হাত এগিয়ে দিল তারাই। সবাই মিলে ছোট্ট একটা ই-মেল পাঠাল প্রধান শিক্ষককে। তাতে লিখল— ‘আমাদের ব্যাচের টপারকে জীবনের সব ক্ষেত্রে সবার আগে থাকুক। সে জন্য ওর পাশে থাকতে চাই। তাই আমাদের কশন মানি ওর চিকিৎসাতেই  খরচ হোক।’
বোর্ডের পরীক্ষায় ৯৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে ওই স্কুলে ‘টপার’ হয়েছে দীপক দ্বিবেদী। পাশ করেছে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ট্রান্সও। তার বাবা শিবশঙ্কর বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী। দারিদ্র নিত্যসঙ্গী। শিবশঙ্করবাবু বলেন, ‘‘ভেবেছিলাম ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হলে আমাদের অভাব কাটবে। কিন্তু ছেলেই মারণ-রোগের কবলে পড়ল!’’
কয়েক মাস আগে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে দীপক। অনেক পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে সে। মাথায় বাজ পড়ে দ্বিবেদী পরিবারের।
খবর পেয়ে কথা হারিয়েছিল দীপকের স্কুলের বন্ধুরা। পাশে দাঁড়াতে এ ভাবেই এগোল সকলে। স্কুলের সচিব অভয়কুমার মিশ্র জানান, পড়ুয়াদের কশন মানি ৫০০ টাকা। ২৫০ জন ছাত্র ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা পাশ করেছে। তাদের মধ্যে ২৩০ জন কশন মানি ফেরত নেবে না বলে জানিয়েছে। সব মিলিয়ে জমেছে ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা। 
গত কাল দীপকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পাঠানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক কিরণ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের এই উদ্যোগ দেখে স্কুলের শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী এবং অন্য ক্লাসের পড়ুয়ারাও দীপকের পাশে দাঁড়াতে চলেছেন।
দীপকের সহপাঠী মনীশ কুমার মাহতো বলে, ‘‘রেজাল্ট বেরনোর দিন ওই খবর পেয়েছিলাম। ফেসবুকে অন্যদের সঙ্গে কথা বলে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’’ আরও এক বন্ধু হিমাংশু রঞ্জন বলে, ‘‘১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য হয়তো অনেক কম। কিন্তু দীপক বুঝবে, এই লড়াই ওর একার নয়। আমাদের সবার।’’ শিবশঙ্করবাবু জানান, দীপককে কলকাতার ঠাকুরপুকুরে ক্যানসার হাসপাতালে নিয়ে যাবেন তাঁরা। সে এখন ভর্তি রাঁচীর একটি হাসপাতালে। শিবশঙ্করবাবু বলেন, ‘‘ছেলের বন্ধুরা এমন ভাবে আশার আলো দেখাবে ভাবতে পারিনি। ওদেরকে ধন্যবাদ।’’