বাজারে অঢেল খুচরোর ঠেলায় শেষ পর্যন্ত দেশের চারটি টাঁকশালে মুদ্রা তৈরি বন্ধ করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া’ মঙ্গলবার এ নিয়ে নির্দেশ জারি করেছে। যার ফলে কলকাতা, মুম্বই, হায়দরাবাদ ও নয়ডা টাঁকশালে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার মুদ্রা তৈরি বন্ধ করা হয়েছে।

নোট বাতিলের পরে নগদের চাহিদা মেটাতে প্রচুর সংখ্যায় খুচরো মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল। যা ছিল প্রয়োজনের থেকেও বেশি। ফলে খুচরো নিতে চাইছেন না অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতা। টাকা তোলার সময়ে‌ গ্রাহকদের হাতে খুচরো ধরালেও তাঁদের থেকে নিতে রাজি নয় ব্যাঙ্ক। সব মিলিয়ে খুচরো নিয়ে সমস্যায় আমজনতা থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুখপাত্রের বক্তব্য, মুদ্রা তৈরির বিষয়টি দেখে সরকার। তারা শুধু খুচরো বণ্টনের ব্যবস্থা করে। সূত্রের খবর, রিজার্ভ ব্যাঙ্কেরও এই মুহূর্তে খুচরোর বিশেষ প্রয়োজন হচ্ছে না। যে কারণে তারাও টাঁকশালগুলি থেকে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকার খুচরো মুদ্রা তোলেনি। ফলে টাঁকশালের গুদামে খুচরো রাখার জায়গা হচ্ছে না। সেই কারণেই উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন: মহাযজ্ঞ, বগলাপুজো হবে লালকেল্লায়, লক্ষ্য মোদীকে জেতানো

খুচরো নিয়ে যত কাণ্ডের শুরু নোটবন্দির পর থেকেই। সেই সময় ব্যাঙ্কগুলি গ্রাহকদের পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের বদলে হাজার-হাজার টাকা খুচরো দিয়ে মানুষের চাহিদা মিটিয়েছে। পাশাপাশি মানুষও চালু নোট বাঁচিয়ে রাখতে বাড়িতে জমানো খুচরো পয়সা ব্যবহার করতে শুরু করে। বাজারে খুচরোর বন্যা শুরু। অথচ ২০১৬-র নভেম্বরে নোটবন্দির সিদ্ধান্তের আগে খুচরোর টানাটানিতে সারা দেশে কার্যত ‘মারামারি’ লেগে থাকত। কিন্তু এখন সেই খুচরোর ঠেলাতেই প্রাণ ওষ্ঠাগত। মানুষের ক্ষোভ, নোট বাতিলের এক বছর কেটে গেলেও ব্যাঙ্কগুলি পেনশন কিংবা অন্য প্রয়োজনে টাকা তুলতে গেলে খুচরো ধরিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু গোনা ও রাখার সমস্যার কথা জানিয়ে গ্রাহকদের থেকে খুচরো নিচ্ছে না।

গ্রাহকদের থেকে খুচরো নেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে বারবার বলছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু ব্যাঙ্কগুলি তা মানছে না বলে অভিযোগ। ব্যাঙ্কের যুক্তি, তাদের কাছে প্রচুর খুচরো জমে রয়েছে। নেওয়ার লোক নেই। সমস্যায় পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলিও। সিপিএমের মতো দল অ্যাকাউন্টে মুদ্রা জমা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সিপিএমের দুই সাংসদ মহম্মদ সেলিম ও বদরুদ্দজ্জা খান এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানান, মানুষের অভিযোগ জমা পড়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দেশের ব্যাঙ্কগুলিকে খুচরো জমা নিতে বলেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আঞ্চলিক শাখাগুলিকেও খুচরো জমা ও বদল করতে কাউন্টার খুলতে বলা হয়েছে।