অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কোচ নির্মাণে আগামী তিন বছরে দু’হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল রেল মন্ত্রক।

আজ পরিকাঠামো সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানান, রায়বরেলীর কোচ কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত পাঁচ গুণ বাড়ানো হবে। বর্তমানে ওই কারখানাটিতে বছরে এক হাজারটি এলএইচবি কামরা তৈরি হয়। তা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার করতে চাইছে মন্ত্রক। রেলকর্তাদের বক্তব্য, যত বেশি সংখ্যক ট্রেনে এলএইচবি কামরা লাগানো হবে, দুর্ঘটনার সময়ে প্রাণহানির সংখ্যা তত কমবে। গয়ালের কথায়, এই আর্থিক বিনিয়োগের একটি বড় অংশই রায়বরেলী কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হবে।

বর্তমানে ভারতীয় রেলে দু’ধাঁচের কোচ তৈরি হয়। জার্মান প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়া এলএইচবি (লিঙ্কে হফমান বস্) এবং চিরাচরিত কোচ। এর মধ্যে এলএইচবি কামরাগুলি দুর্ঘটনার সময়ে পরস্পরের মাথায় চড়ে যায়। কামরার সঙ্গে কামরার সরাসরি টক্কর না হাওয়ায় প্রাণহানি কম হয়। অন্য দিকে চিরাচরিত কামরাগুলি ‘টেলিস্কোপিক’। দুর্ঘটনা ঘটলে একটি কামরার ভিতরে অন্য কামরা ঢুকে যায়। ফলে প্রাণহানির সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই গত কয়েক বছর ধরেই পরিকল্পিত ভাবে এই ধরনের কামরা বানানো কমিয়ে দেওয়ার নীতি নিয়েছে রেল।

বর্তমানে চিরাচরিত কামরাগুলি তৈরি হয় চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রেটেড কোচ কারখানায়। গত বছর ওই কারখানায় ২০০৫টি কামরা তৈরি হয়েছিল। যার মধ্যে ২৫০টি ছিল এলএইচবি কোচ। মন্ত্রক জানিয়েছে, আগামী দিনে ওই কারখানাটিতে এলএইচবি কামরার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আধুনিকীকরণের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। সেই কাজেও বিনিয়োগ করা হবে অর্থ। রেল জানিয়েছে, সব মিলিয়ে আগামী তিন বছরের মধ্যে গোটা দেশের সব ক’টি কারখানা মিলিয়ে এলএইচবি কোচের উৎপাদন অন্তত তিন গুণ বাড়াতে চায় তারা।