শুধু পুজো দেওয়াই নয়, পুরীতে এসে রাজনীতির তাসও খেলে রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনেক দিন ধরেই তাঁর ইচ্ছে ছিল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দেওয়ার। শেষমেশ বুধবার বিকালে ভ্রাতৃবধূ লতা এবং পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে জগন্নাথ দর্শন করলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু তাঁর এই পুজো দেওয়াকে উপলক্ষ করে বিজেপি-বিরোধিতায় কড়া বিবৃতি দিয়ে গোটা বিষয়টাকে কৌশলে রাজনীতির চাল হিসাবেই ব্যবহার করলেন তিনি। বিজেপি-র বিরুদ্ধে সরব হলেন সোশ্যাল মিডিয়াতেও।

প্রতিরোধ উপেক্ষা করে জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি বিজেপি-কে আক্রমণ করে মমতা পাল্টা দাবি করলেন, তাদের  থেকেও তিনি বেশি হিন্দু। মমতার কথায়, ‘‘আমিই আসল হিন্দু। বিজেপি হিন্দুত্বের নামে কলঙ্ক!’’

দু’দিন আগে ভুবনেশ্বরেই দলের কর্মসমিতির বৈঠকে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, ওড়িশায় যে দিন আমরা সরকার গড়ব, সে দিনই আমাদের স্বপ্ন সফল হবে।’’ পাল্টা আক্রমণ করে ওড়িশার মাটিতে দাঁড়িয়েই মমতা বললেন, ‘‘ওরা পুবের দিকে তাকালে আমি দিল্লির দিকে তাকাব!’’

আরও পড়ুন: জামিন রোখার অস্ত্র মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ

রামনবমীর আগে থেকে পশ্চিমবঙ্গে অস্ত্র হাতে বিজেপি-র আস্ফালনে তৃণমূলের অন্দরেই উদ্বেগ বেড়েছে। তাই মমতার জগন্নাথ-বন্দনাকে নিছক পূজার্চনা হিসেবে দেখতে রাজি নন কেউই। বিজেপি-র উগ্র হিন্দুত্বের মোকাবিলায় তিনি বরং উদার বা ‘ভাল হিন্দু’দের নিজের দিকে টানতে চাইছেন।

এখন প্রশ্ন হল, হিন্দুত্বের হাতিয়ারে বিজেপি-কে পাল্টা বিঁধতে গিয়ে মমতার সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে কি প্রভাব পড়বে না? তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের জমানায় সঙ্ঘ পরিবার যে পথে এগোচ্ছে, তাতে সংখ্যালঘুরা এমনিই সন্ত্রস্ত। তাই রাজ্যের শাসক হিসাবে মমতার উপরেই সংখ্যালঘুরা যে আস্থা রাখবেন, এই ব্যাপারে তৃণমূল নেতৃত্বের বিশেষ সংশয় নেই। তাঁরা এখন বিজেপি-র তাস ছিনিয়ে তাদের জমিতে ভাগ বসাতে চাইছেন। 

জগন্নাথ মন্দিরে মমতার পুজো দেওয়া নিয়ে মঙ্গলবারই এক সেবাইত আপত্তি তুলেছিলেন। পুরীর রাস্তায় রাস্তায় চক-খড়িতে লেখা ‘গো ব্যাক মমতা’ও চোখে পড়েছে এ দিন। বিকালে মন্দিরে মমতার ঢোকার সময়ে ‘গো ব্যাক’ বলে বিক্ষোভও দেখান দু’জন। পুলিশি ঘেরাটোপে সবুজ পাড় কটকি শাড়িতে মন্দিরে ঢুকে পুরোহিত বিজয়কৃষ্ণ সিংহারির হাত দিয়ে পুজো দেন মমতা। বেরনোর মুখে আবার বিজেপি-র পতাকার সঙ্গে কালো পতাকা নিয়ে এক যুবক ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে হাজির হন গাড়ির সামনে। মুখ্যমন্ত্রী মন্দির ছেড়ে বেরনো মাত্রই ধুলোর ঝড় তুলে মুষলধার বৃষ্টি অবশ্য জল ঢেলে দিয়েছে বিক্ষোভে!