যোগী আদিত্যনাথের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা লক্ষ্ণী ওরাংয়ের ছবি ঘিরে উত্তপ্ত হল উত্তপ্ত অসমের আদিবাসী সমাজ।

অসমে আদিবাসী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত লক্ষ্ণী ওরাংয়ের ছবি পোস্ট করা হয় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে। কিন্তু, মঙ্গলবারের ওই পোস্টে লক্ষ্ণী ওরাংকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মী হিসাবে উল্লেখ করা হয়। ওই ফেসবুকে পোস্টে দাবি করা হয়, গত বছর ওই ঘটনাটি ঘটে এবং লক্ষ্ণীর উপরে চড়াও হয়ে কংগ্রেসকর্মীরা মারধর করছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল?

২০০৭ সালের ২৪ নভেম্বর। দিসপুর সচিবালয়ের কাছেই আন্দোলন করছিলেন আদিবাসীরা। নেতৃত্বে ছিল ‘অল অসম আদিবাসী ছাত্র সংগঠন’ বা ‘আসা’। তাঁরা কয়েকটি দোকান-গাড়ি ভাঙচুর করেন। তার পর ক্ষিপ্ত জনতা চড়াও হয় আদিবাসীদের উপরে। চলে গণপিটুনি। দুই আন্দোলনকারী মারা যান। জখম হন শতাধিক মানুষ। সচিবালয়ের ১০০ মিটার দূরে উন্মত্ত জনতা নগ্ন করে ফেলে লক্ষ্মী ওরাং নামে এক তরুণীকে। উলঙ্গ ওই তরুণী প্রাণ বাঁচাতে রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে থাকেন। পরে বেধড়ক লাথি-ঘুষিতে অচৈতন্য করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছিল লক্ষ্মীকে। তখন থেকেই অসমে আদিবাসী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন লক্ষ্মী। ওই ঘটনায় এক দিকে যেমন এখনও কারও সাজা হয়নি। তেমনই আজও উপজাতি মর্যাদার জন্য আদিবাসীদের আন্দোলন চলছে। 

আরও পড়ুন: দেহ নিয়ে মিছিল মোর্চার, পাহাড়ে বন্ধ হল ইন্টারনেট পরিষেবা

কিন্তু বেলতলার ওই ঘটনা, নগ্ন লক্ষ্মীর দৌড় ও তাঁকে লাথি কষানোর ছবি ১৩ জুন যোগী আদিত্যনাথের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়। ওই পেজে ৯৫ হাজার ফলোয়ার রয়েছে। পোস্টে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজেপি সমর্থককে নরেন্দ্র মোদীর সমর্থনে স্লোগান দেওয়ায় কংগ্রেস সমর্থকরা তাঁর এমন অবস্থা করেম। কিছু ক্ষণের মধ্যে ৩০ হাজার মানুষ পোস্টটি শেয়ার করেন। আদতে বিজেপিতে কখনও যোগ দেননি লক্ষ্মী। বরং ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে এআইইউডিএফের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন লক্ষ্মী। যদিও তা বাতিল হয়।

ফেসবুকের এই পোস্ট ঘিরেই ক্ষুব্ধ অসমের আদিবাসী সমাজ।

পরে অসমে তেজপুরের সাংসদ আর পি শর্মা ওই পোস্ট শেয়ার করলে রাজ্যের আদিবাসী সংগঠনগুলি প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। শর্মা এ দিন বলেন, “আমি লক্ষ্মীর ছবি চিনেছি। কিন্তু কংগ্রেস তো সর্বত্রই মেয়েদের উপরে এমন অত্যাচার চালাচ্ছে। তাই ওই পোস্ট শেয়ার করেছি।”

‘আসা’-র দাবি, একে তো বিজেপি মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদিবাসীদের ঠকাচ্ছে। এখনও মেলেনি উপজাতি মর্যাদা। তার উপরে লক্ষ্মীর ছবি নিয়েও মিথ্যাচার চালাচ্ছেন তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী। ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমিতি আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে। শোণিতপুর, নগাঁও, ধুবুড়ি, উদালগুড়ির বিভিন্ন স্থানে আদিত্যনাথের কুশপুতুল পোড়ানো হয়। ‘আসা’র দাবি, বিজেপিকে এই ঘটনার জন্য যোগীকে শাস্তি দিতে হবে। না হলে আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে অসম জুড়ে আন্দোলনে নামবেন আদিবাসীরা।

ছবি-ফেসবুক থেকে