উত্তাল হয়ে উঠল সংসদের বাজেট অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ভাষণের উপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ধন্যবাদ জ্ঞাপক ভাষণ শুরু হওয়ার আগে থেকেই লোকসভায় তুমুল হট্টগোল শুরু করল সম্মিলিত বিরোধী পক্ষ। প্রদানমন্ত্রীর ভাষণ শুরু হওয়ার পরেও চলতে থাকল হট্টগোল। তার মাঝেই ভাষণ শুরু করলেন মোদী।

নিজের ভাষণের শুরুতেই এ দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রংশসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলগুলি রাষ্ট্রপতির ভাষণের নানা অংশের সমালোচনায় যে ভাবে সরব হয়েছে, তার বিরোধিতা করলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘‘মাননীয় রাষ্ট্রপতির ভাষণ কোনও রাজনৈতিক দলের ভাষণ নয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ হল প্রত্যেক ভারতীয়ের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন।’’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ অবশ্য অনবরত বাধা পেয়েছে বিরোধী শিবির থেকে। কংগ্রেস-সহ প্রায় সব বিরোধী দল সম্মিলিত বিক্ষোভ দেখাতে থাকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মাঝেই। বিরোধীদের তুমুল স্লোগানের জবাবে মোদী নিজেও সুর চড়ালেন। নেহরু-গাঁধী পরিবারকে তথা কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি।

কী বললেন প্রধানমন্ত্রী লোকসভায়? দেখে নিন এক নজরে:

আরও পড়ুন: প্রশ্ন তুলছেন কেন, চার বছরে নিজে কী করলেন বলুন: কটাক্ষে রাহুল

• আমি জানি, দুর্নীতি এবং কালো টাকার বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ একাংশকে আঘাত করছে। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, এমন লোকজনও আজ জেলে রয়েছেন। যে যতই ক্ষমতাশালী থেকে থাকুন, যদি তিনি দুর্নীতি করে থাকেন, তাঁকে সাজা পেতেই হবে। আমরা সততার যুগে রয়েছি।’’ বললেন প্রধানমন্ত্রী।

• দুর্নীতির প্রশ্নে কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেন মোদী। বললেন, ‘‘দুর্নীতিগ্রস্তরা এবং দালালরা যখন অকেজো, তখন কংগ্রেস অবশ্যই অখুশি হবে।’’

• একটা নতুন ভারত গড়তে হবে আমাদের। আসুন জনগণের স্বপ্ন পূরণে হাত মিলিয়ে কাজ করি। লোকসভায় আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর।

• জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গে নাম না করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীকে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

• ‘‘দেশ যখন ডোকলামে লড়ছিল, তখন আপনি চিনের লোকেদের সঙ্গে দেখা করছিলেন।’’ বললেন মোদী।

• দেশে এখন ‘হিট অ্যান্ড রান’ রাজনীতি চলছে বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘কাদা ছোড়ো আর পালিয়ে যাও’, বিরোধীদের রাজনীতিটা এই রকমই। মন্তব্য মোদীর।

• ‘যত কাদা ছুড়বে, পদ্ম ততই প্রস্ফুটিত হবে’, বিরোধীদের কটাক্ষ মোদীর।

আরও পড়ুন: দেশে সাম্প্রদায়িক হিংসা বেড়েছে, সবার উপরে উত্তরপ্রদেশ

• অনাদায়ী ঋণ প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে আক্রমণ প্রধানমন্ত্রী মোদীর। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে যাঁরা তা আর শোধ করছেন না, তাঁরা কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জমানাতেই ঋণ পেয়েছিলেন। অভিযোগ করলেন মোদী। ঋণখেলাপের দায় কংগ্রেস তথা ইউপিএ-কেই নিতে হবে, মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর।

• কাশ্মীর সমস্যা নিয়েও জওহরলাল নেহরু তথা কংগ্রসকে আক্রমণ করলেন মোদী।

• ‘‘যদি সর্দার বল্লভভাই পটেল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হতেন, গোটা কাশ্মীর আমাদের হত।’’ বললেন মোদী।

• গণতন্ত্রের প্রশ্নে কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনায় সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী। গণতন্ত্রের উপর বার বার আঘাত হেনেছে কংগ্রেস। দাবি মোদীর।

• ‘‘আপনাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না। তাই দয়া করে আপনারা আমাদের গণতন্ত্রের পাঠ দেবেন না।’’ বললেন মোদী।

• কংগ্রেস কেরলে কী করেছে, পঞ্জাবে অকালি দলের সঙ্গে কংগ্রেস কী রকম ব্যবহার করেছে, তামিলনাড়ুতে তাদের ব্যবহার কেমন ছিল? নিজেদের খেয়াল-খুশিতে একের পর এক রাজ্য সরকারকে কেন বরখাস্ত করেছে কংগ্রেস? প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী।

• ‘‘গণতন্ত্র কংগ্রেস বা নেহরুজির অবদান নয়, গণতন্ত্র আমাদের শিরায় শিরায় দৌড়চ্ছে, গণতন্ত্র আমাদের পরম্পরায় রয়েছে।’’ বললেন প্রধানমন্ত্রী।

• ‘‘কোনও নেতা কী ভাবে বলেন যে, এই দেশ গণতন্ত্র পেয়েছে পণ্ডিত নেহরুর জন্য এবং কংগ্রেসের জন্য? ভারতের ইতিহাস সম্পর্কে তাঁদের ধারণা এই রকম? এটা কী ধরনের ঔদ্ধত্য!’’ প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী।

• ‘‘দশকের পর দশক ধরে একটা দল তাদের সব শক্তি প্রয়োগ করেছে একটা পরিবারের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য। একটা পরিবারের স্বার্থের কথা ভাবতে গিয়ে গোটা দেশের স্বার্থকে অবহেলা করা হয়েছে।’’ কংগ্রেস এবং নেহরু-গাঁধী পরিবারকে এই ভাষাতেই আক্রমণ করলেন মোদী।

• ‘‘মিথ্যা ভাষণ বন্ধ করো, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বন্ধ করো’’, লোকসভায় মোদীর ভাষণ চলাকালীন লাগাতার স্লোগান বিরোধীদের।

• কংগ্রেসের পাপের ফল ভোগ করছে গোটা দেশ, মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।

• নেহরু-গাঁধী পরিবারকে প্রবল আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

• ‘দেশভাগের জন্য দায়ী কংগ্রেস, দেশ ভাগের বোঝা আজও বইতে হচ্ছে দেশকে।’ বললেন প্রধানমন্ত্রী।