জালে না-ই বা পড়ুক জাল নোট, না-ই বা এল কালো টাকা, বেড়ে চলুক সন্ত্রাসও— তবু নোটবন্দির গুণগান করে পদ্য লিখে মিলতে পারে ২ লক্ষ টাকা।

গত বছরের এই নভেম্বর মাসই। ৮ তারিখ রাত আটটায় টিভির পর্দায় হাজির হয়ে গোটা দেশকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সদ্য পাঁচ দিন আগে তার বর্ষপূর্তি হয়ে গেল। বিরোধীরা পালন করল ‘কালো দিবস’। বলল, এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচশো ও হাজার টাকার নোট বাতিল করলেন, তাতে না উদ্ধার হল কালো টাকা, না বন্ধ হল জাল নোট আসা, কমলো না সন্ত্রাসও। উল্টে ভোগান্তি বাড়ল, প্রাণ হারালেন অনেকে। ধাক্কা খেল অর্থনীতি, রোজগার হারালেন বহু মানুষ। নোটবন্দি করে তবে লাভ কী হল? শুধু বিরোধীরা নয়, বিজেপি নেতারাও এখন প্রকাশ্যে একই প্রশ্ন তুলছেন। সংসদের আর্থিক বিষয়ক কমিটিতে বিজেপিরই সাংসদ মন্ত্রকের অফিসারদের প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘কত জন আত্মহত্যা করেছেন, অসংগঠিত ক্ষেত্রের কী হাল হয়েছে, তার কোনও হিসেব রাখে কি সরকার?’’

আরও পড়ুন: শিবভক্ত আমি, প্রচারে রাহুল

ঘরে-বাইরে এত বিরোধ। তারই মোকাবিলার জন্য নতুন এক পন্থা বার করলেন মোদী। নোটবন্দির পক্ষে সওয়াল করতে মাঠে নামালেন আমজনতাকে। তার জন্য ঘটা করে আয়োজন করেছেন প্রতিযোগিতারও।  নোটবন্দির ‘সুফল’ নিয়ে পদ্য লিখলে প্রথম পুরস্কার ২ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় পুরস্কার ১ লক্ষ টাকা, তৃতীয় ৫০ হাজার টাকা। আর ২৫ হাজার টাকার পাঁচটি সান্ত্বনা পুরস্কারও আছে। শুধু পদ্যই নয়। চাইলে কেউ কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র, ভিডিও বা ১২০০ শব্দের নিবন্ধও লিখে পাঠাতে পারেন। সে সব শ্রেণিতেও পুরস্কারমূল্য একই।

মোদীর চালু করা ‘মাই গভ’ ওয়েবসাইটে এই প্রতিযোগিতার মুখবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য: ‘‘ইতিহাসে এমন মুহূর্ত আসে, যখন দেশের উন্নতির জন্য রূপান্তরের আন্দোলনে শরিক হওয়ার অনুভব বোধ করে মানুষ। দুর্নীতি, কালো টাকা, সন্ত্রাস ও জাল নোট রোধের এই মহাযজ্ঞে ১২৫ কোটি ভারতীয়ের কাছে আজ সেই সুযোগ এসেছে।’’

বিরোধীরা যা-ই বলুক, সরকারের দাবি ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর তারিখটি ইতিহাসে ‘স্বর্ণাক্ষরে’ লেখা একটি দিন। এক ‘বৈপ্লবিক’ পদক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এর পরেই আবেদন করা হয়েছে, ঠিক যে ভাবে নোটবন্দির যজ্ঞেও দেশের মানুষ ‘অপ্রত্যাশিত’ ভাবে শরিক হয়েছিল, এ বারে তার ‘সাফল্য’ বর্ণনা করতেও জনতা সামিল হবে। 

নোটবন্দির বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, লেখা-ভিডিও-কার্টুনের ছড়াছড়ি। মোদীর ‘১২৫ কোটি জনতা’র মধ্যে কত জন কলম ধরেছেন নোট বাতিলের পক্ষে? মাই গভ বলছে, এ পর্যন্ত প্রতিযোগীর সংখ্যাটা এক হাজারের কিছু বেশি। চলতি মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাবে।

কংগ্রেসের মণীশ তিওয়ারির মতে, ‘‘মানুষের সমর্থন আদায়ে প্রধানমন্ত্রী যতই পন্থা খুঁজে বার করুন, ভোটের বাক্সে জবাব দেবে জনতা।’’