রাহুল গাঁধীর কাছে গুজরাতে ধাক্কা খেয়ে নতুন বছরের গোড়াতেই ভোটের হাওয়া তুলতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভার সঙ্গে সব রাজ্যের বিধানসভার ভোটও সেরে ফেলতে মঙ্গলবার সব দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন স্পিকার সুমিত্রা মহাজন।

বিজেপির শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য, চলতি সপ্তাহেই দলের সাংসদদের সঙ্গে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যুবদের ভোট কী ভাবে টানতে হবে, তা বোঝানোর সঙ্গে সঙ্গে দলের নেতাদের হাতে আগামী ছ’মাসের কর্মসূচিও তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি লোকসভা-বিধানসভা ভোট এক সঙ্গে করার হাওয়া তুলে নেতা-সাংসদদের উপরে চাপ বাড়াবেন প্রধানমন্ত্রী।

এক সঙ্গে সব ভোট করানোর ব্যাপারে দীর্ঘ দিন ধরেই সরব মোদী। বিজেপি সূত্রের মতে, চলতি বছরের মধ্যে এক সঙ্গে ভোট করানোর ব্যাপারে সব দল একমত হলেও তা কার্যকর করতে অন্তত পাঁচ বছর লাগবে। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কেন্দ্র আইন পাশ করলে ২০১৮-র সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা প্রস্তুত হয়ে যাবে।

আগামী লোকসভা ভোটে বিরোধীরা একজোট হওয়ার অঙ্ক কষছে। তার উপর কৃষির দুর্দশা, বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি, জমায় সুদের হার কমা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বিজেপি সরকারির বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। শুধু মুখের কথায় যে আর ভোটে জেতা যাবে না, তা বুঝিয়েছে গুজরাত ভোট। সেই সঙ্গে স্পষ্ট হচ্ছে যে, মোদীর সেই ‘ক্যারিশমা’ আর নেই। এই অবস্থায় নিজের দলকে এখন থেকেই দৌড় করাতে চাইছেন মোদী। পাশাপাশি ১ ফেব্রুয়ারি এই সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কৃষক, গ্রাম এবং কর্মসংস্থানের উপরে সবথেকে বেশি জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, গত লোকসভা ভোট হয়েছিল মনমোহন সিংহের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে। এ বারে মোদীর কাজের হিসেবে ভোট হবে। এবং সেখানেই এককাট্টা বিরোধীরা রক্তচাপ বাড়াচ্ছে। সে কারণে এখন থেকেই অঙ্ক কষছেন মোদী।