শ্রীনগরের হাসপাতাল থেকে ফেরার নাভিদ জাট উপত্যকায় লস্করের পুনরুজ্জীবনে বড় ভূমিকা নেবে বলে আশঙ্কা গোয়েন্দাদের। বিষয়টি নিয়ে আজ সরকারকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, নাভিদ পাকিস্তানের মুলতানের বাসিন্দা। তার বাবা মহম্মদ হানিফ জাট পেশায় ট্রাকচালক। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের মুরিদকে এলাকায় লস্করের শিবিরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় নাভিদকে। ২০১২ সালে সে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে কাশ্মীরে ঢোকে। প্রথমে জঙ্গিদের একটি দলের সঙ্গে বান্দিপোরে লুকিয়ে ছিল সে। পরে ২০১৩ সালে দক্ষিণ কাশ্মীরে লস্করের সংগঠনে যোগ দেয়।

প্রথম থেকেই লস্করের কাজকর্মে প্রযুক্তির ব্যবহার দেখাশোনার ভার দেওয়া হয়েছিল নাভিদকে। স্কাইপে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত সে। আবু কাসিম ছদ্মনামে বাহিনীর উপরে একাধিক হামলার ছক কষেছিল নাভিদ। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে নাগবলে এক স্কুল শিক্ষককে খুনের অভিযোগ রয়েছে এই জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে।

জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশকর্তাদের মতে, গত নভেম্বরে বড় ধাক্কা খায় লস্কর। তখন লস্করের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আব্দুল রহমান মক্কির ছেলে ওসামা জাঙ্গভি-সহ ছ’জন পাক জঙ্গি খতম হয়েছিল। পুলিশের মতে, ক্রমাগত অভিযানে লস্কর কাশ্মীরে একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। ফলে সংগঠনকে ফের চাঙ্গা করতে ওই পাক জঙ্গি নেতাদের উপত্যকায় পাঠায় লস্কর নেতৃত্ব। কিন্তু তারাও খতম হওয়ায় লস্কর একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তখনই নাভিদের মতো জেলে থাকা কোনও জঙ্গি নেতাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে বাধ্য হয় লস্কর।

রাজ্যসভায় আজ নাভিদ প্রসঙ্গ নিয়ে সরকারকে তোপ দাগেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ। তিনি বলেন, ‘‘সরকার দাবি করছে কাশ্মীরের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু জঙ্গি নেতার পালিয়ে যাওয়া থেকেই প্রমাণ হচ্ছে অবস্থার অবনতি হচ্ছে। জঙ্গি নেতাকে কেন সাধারণ হাসপাতালের বদলে সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল না তা বোঝা মুশকিল।’’ সংসদে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।