গুরুগ্রামের রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ট্রাস্টিদের স্বস্তির মেয়াদ বাড়ল এক দিন। অর্থাৎ আগামিকাল পর্যন্ত গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেলেন রায়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান অগাস্টিন পিন্টো, তাঁর স্ত্রী তথা গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর গ্রেস পিন্টো এবং ছেলে রায়ান পিন্টো। ট্রাস্টের এই তিন সদস্যের আগাম জামিনের আর্জির বিরোধিতা করে বম্বে হাইকোর্ট আবেদন করেছিলেন নিহত ছাত্র প্রদ্যুম্নের বাবা বরুণ ঠাকুর। আদালত বলেছে, তারা আগামিকাল বিষয়টি শুনবে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর সাত বছরের প্রদ্যুম্নের গলা কাটা দেহ মিলেছিল স্কুলেরই শৌচাগার থেকে। শিশুটিকে খুনের অভিযোগে সে দিন বিকেলেই গ্রেফতার করা হয় ওই স্কুলের এক বাসের খালাসি অশোক কুমারকে। কিন্তু গুরুগ্রাম পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট নন নিহত ছাত্রের বাবা-মা। সিবিআই তদন্ত চেয়ে আদালতে গিয়েছেন তাঁরা। এ দিকে গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন পিন্টোরা। অগাস্টিন, গ্রেস এবং রায়ানের দাবি, স্কুলের দৈনন্দিন কাজকর্ম তাঁরা দেখভাল করেন না। সেই সঙ্গে আগাম জামিনের আবেদনও করে রেখেছে পিন্টো পরিবার।

পিন্টোরা যাতে আগাম জামিন না পান, সেই আর্জি জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রদ্যুম্নের বাবা। আজ বিচারপতি অজয় গডকড়ী নির্দেশ দেন, তাঁর আর্জির প্রতিলিপি পিন্টোদের দেওয়া হোক। বিচারপতি বলেন, ‘‘আপনারা যদি আপনাদের আর্জির প্রতিলিপি না দেন, ওঁরা জবাব দেবেন কী করে? আমি আগামিকাল মামলাটি শুনব। তত ক্ষণ পর্যন্ত ওঁদের রক্ষাকবচ বহাল রইল।’’

ঠাকুর দম্পতির বক্তব্য, স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের গাফিলতি ঢাকার জন্য সমস্ত দায় বাসের খালাসির উপর চাপাতে চাইছেন। আজ শুধু জামিনের বিষয়টি ছাড়া এই মামলার অন্য কোনও প্রসঙ্গ শুনতে চায়নি বম্বে হাইকোর্ট। তবে হরিয়ানা থেকে মামলাটি সরানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রদ্যুম্ন হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ায় স্কুল আধিকারিক ফ্রান্সিস টমাস।

কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে রায়ান গ্রুপের উত্তারঞ্চলীয় প্রধান ফ্রান্সিসকে গত সোমবার গ্রেফতার করেছিল গুরুগ্রাম পুলিশ। ফ্রান্সিসের বক্তব্য, হরিয়ানায় এই মামলা চললে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। আগামী সোমবার তাঁর আর্জি শোনা হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। আজ আদালতে তোলা হয়েছিল ধৃত খালাসি অশোক কুমারকে। তার ডিএনএ-র নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদালত তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।