গত কালই কর্নাটক থেকে ফিরেছেন। গরদ পরে পুজো দিয়েছেন উদিপীর মোকাম্বিকা মন্দিরে। আজ তেমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল না রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের। সন্ধ্যায় যখন তিনি ‘অল ইন্ডিয়া কাশীরাজ ট্রাস্ট’ প্রকাশিত ‘গরুড় পুরাণে’র উদ্বোধন করছেন রাষ্ট্রপতি ভবনে, তত ক্ষণে এনডিএ-র মনোনীত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ রাজধানী পৌঁছে গিয়েছেন।

এমনিতে অফিসে যখন বসেন প্রণববাবু, গোটা সময়টাই টিভি চলে শব্দহীন ভাবে। আজও রাইসিনা হিলস-এর সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীর খবর প্রথমে টিভিতেই চোখে পড়েছে তাঁর।

ইন্দিরা গাঁধী ঠাট্টা করে বলতেন, প্রণবের মাথায় টোকা মারলে পাইপের ধোঁয়া ছাড়া কিছু বেরোবে না! পরিচিত সকলে জানেন, প্রণবের মুখ দেখেও বোঝা অসম্ভব, ভিতরে কোন আবেগ কাজ করছে। এ হেন প্রণববাবুর দ্বিতীয় বার রাষ্ট্রপতি হওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনাটুকু আজ শেষ হয়ে গেল তা-ই নয়, প্রায় পাঁচ দশকের বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনে অবসরের নোটিসটিও এসে পড়ল। কিন্তু তিনি, আজ সন্ধ্যাতেও গলাবন্ধ এবং সোনালি পকেট-ঘড়িতে সুসজ্জিত হয়ে বই উদ্বোধন সারলেন। গরুড়-আখ্যান নিয়ে আলোচনাও করলেন অভ্যাগতদের সঙ্গে।

আরও পড়ুনবিদায়লগ্নেও ধর্ষকদের প্রতি ক্ষমাহীন প্রণব

বরাবর বলে এসেছেন, সর্বসম্মতি না হলে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার প্রশ্ন নেই। বিরোধীদের একাংশ যে তাঁর নামটি সামনে আনতে চাইছেন— তা-ও জানতেন। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রণব প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অবসরের। ব্যক্তিগত সংগ্রহের বই ছাড়া প্রায় কিছুই সঙ্গে নিয়ে যাবেন না, স্থির করা হয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি ঘরোয়া আলাপচারিতায় বলছিলেন, ইদানীং একটা দিনও যায় না যেদিন রবীন্দ্রনাথের একটি-দু’টি কবিতা বা গান নিরুচ্চারে আবৃত্তি না-করেন। বিদেশ সফর বন্ধ অনেক মাস। চলতি মাসের ২৯ তারিখ শেষ বারের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের রাজ্যে যাবেন তিনি। তার পর শুধু উত্তরাখণ্ড যাওয়ার কথা।

অবসরে কী করবেন? বই পড়বেন, বক্তৃতা দেবেন, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক গড়বেন নাকি রাজনীতি সংক্রান্ত পরামর্শ দেবেন— সম্ভাবনা বহু। শুধু ঝুঁকে পড়ে প্রিয় শেফার্স কলমে একের পর এক ফাইল সই করতে অথবা বৈঠকের আগে মগ্ন হয়ে ব্রিফ ঝালাই করে নিতে আর প্রণববাবু্কে দেখবে না রাজধানী।