রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মোদী-বিরোধী জোটকে লোকসভা ভোট পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান সনিয়া গাঁধী, সীতারাম ইয়েচুরিরা। আর সেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে হাতিয়ার করে গোড়াতেই বিরোধী শিবিরে ফাটল ধরাতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ। বিজেপি সূত্রের খবর, কোনও নাম ছাড়া বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা আসলে সেই কৌশলেরই অঙ্গ।

বিজেপির এক শীর্ষ সূত্রের মতে, এনডিএ-র শরিক ছাড়াও বিজেডি, এডিএমকে, ওয়াইএসআর কংগ্রেসের মতো এনডিএ-র বাইরের দলগুলিকে নিয়ে সরকারের কাছে সংখ্যা রয়েছেই। এর পরেও শরদ পওয়ার, নীতীশ কুমার, মুলায়ম সিংহ যাদবের দলকে যদি সঙ্গে টানা যায়, বিরোধী শিবিরকে ছত্রভঙ্গ করা যাবে। সেটাই লক্ষ্য বিজেপির। রাষ্ট্রপতি ভোটে হুইপ জারি হয় না। বিবেক ভোট হয়। ফলে বিরোধী শিবিরের কোনও দল বা নেতা যদি সঙ্গে আসেন, সেটাই হবে বিজেপির বাড়তি পাওনা। সোমবার এনডিএ শরিকদের সঙ্গে বসবে বিজেপি। সর্বসম্মত কোনও প্রার্থী আলোচনার সূত্রে বেরিয়ে এলে আরও বিরোধী দলকে পাশে পাওয়া যাবে। এরই মধ্যে লালকৃষ্ণ আডবাণীকে প্রার্থী করার দাবিতে পোস্টার পড়েছে দিল্লিতে বিজেপি দফতরের সামনে। মোদী জমানায় যা বেনজির। 

আরও পড়ুনভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট এখনই নয়, মন্তব্য অমিত শাহের

বিজেপির কৌশল এখন বিরোধীরাও টের পাচ্ছে। সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে দেখা করে সীতারাম ইয়েচুরি বলে এসেছেন, বিজেপির এই ফাঁদে পা না-দিয়ে বরং এখনই প্রার্থী ঘোষণা করা হোক। সনিয়াও বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। আজ সীতারাম বলেন, ‘‘২০ জুনের মধ্যে সরকার কোনও প্রার্থী না দিলে বিরোধী জোট ২১ জুন নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিক।’’

অমিত শাহ অবশ্য আলোচনার পিছনে রাজনীতি খোঁজার পক্ষপাতী নন। তিনি আজ মুম্বইয়ে বলেন, ‘‘নাম নিয়ে গেলে বিরোধীরা বলত— ঠিক করেই যখন এসেছেন, তখন কীসের আলোচনা?’’ তা হলে কি নাম স্থির হলে আবার বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলবে বিজেপি? অমিতের জবাব, ‘‘অবশ্যই। বিরোধীরা কোনও নাম দিলে সেটিও বিবেচনা করা হবে। শরিক ও বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করেই বিজেপি নাম চূড়ান্ত করবে।’’ আগামিকাল অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের আগেই শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত ও এম এস স্বামীনাথনের নাম প্রস্তাব করেছেন। অমিত শাহ জানিয়েছেন, সব নাম নিয়েই আলোচনা হবে।

বিজেপির এক সূত্রের মতে, অরাজনৈতিক কাউকে প্রার্থী করা হবে না। তবে সুষমার মতো কেউ হলে কংগ্রেস, তৃণমূল, জেডি(ইউ) এমনকী এনসিপি-রও সমর্থন মিলতে পারে। সুষমা আজ বিদেশ মন্ত্রকের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হচ্ছেন কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি বিদেশমন্ত্রী। আর আপনারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশ্ন করছেন!’’