গুজরাতের ভোটপর্ব মিটলেই সনিয়া গাঁধীর হাত থেকে দলের নতুন সভাপতির পদের দায়িত্ব নেবেন রাহুল গাঁধী।

আগামিকালই কংগ্রেসের সভাপতি পদের নির্বাচনে নাম প্রত্যাহারের শেষ দিন। একমাত্র রাহুল গাঁধীই মনোনয়ন পেশ করেছেন। ফলে কালই কংগ্রেসের নির্বাচনী কমিটি আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়ে দেবে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হয়েছে রাহুল গাঁধীর। প্রথমে ঠিক ছিল, কালই জয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে দলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি। দলের নেতাদেরও উপস্থিত থাকতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু গুজরাতের প্রচারে ব্যস্ত থাকায় রাহুল গাঁধী আপাতত আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নিচ্ছেন না। কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৪ ডিসেম্বর গুজরাতের ভোটপর্ব মেটার পর শনিবার দায়িত্ব নেবেন রাহুল।

কংগ্রেস সূত্রের মতে, সে দিন দিল্লির অনুষ্ঠানে সনিয়া গাঁধীও উপস্থিত থাকবেন। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদেরও সে দিনের ‘মেগা-শো’-এ উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে। মনোনয়ন পেশের দিন সনিয়া প্রথম স্বাক্ষর করলেও এআইসিসি দফতরে আসেননি। কংগ্রেসের এক নেতার কথায়, ‘‘গুজরাত ভোটে নরেন্দ্র মোদীকে রীতিমতো দৌড় করিয়েছেন রাহুল। ফলাফলে তার প্রভাব পড়বে।’’

আরও পড়ুন: কংগ্রেসে বাতি জ্বললে স্বস্তি ত্রিপুরা সিপিএমে

কংগ্রেসের মহিলা মোর্চার প্রধান সুস্মিতা দেবের মতে, ‘‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ই রাহুলের সব থেকে বড় শক্তি। তাঁর অভিষেকে গোটা দলে উৎসাহ ছড়িয়েছে।’’ তবে কংগ্রেস নেতারা মনে করছেন, দলের দায়িত্ব নিয়ে নবীন-প্রবীণদের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সাংগঠনিক খোলনলচে বদলানোই রাহুলের চ্যালেঞ্জ। গুজরাত ভোটে অশোক গহলৌত, হিমাচলে সুশীল শিন্দের মতো প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে রাহুল বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভারসাম্য বজায় রেখেই তিনি এগোবেন। আবার মণিশঙ্কর আইয়ারকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েও রাহুল বার্তা দিয়েছেন, কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবেন না তিনি।

বিজেপি অবশ্য বলছে, গুজরাতের ফল প্রকাশ হবে ১৮ ডিসেম্বর। তার আগে সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন রাহুল, যাতে হারের পর তাঁর মুখ না পোড়ে। মোদীও আজ গুজরাতের প্রতিটি জনসভায় কটাক্ষ করে গিয়েছেন রাহুলকে। বলেছেন, ‘‘কংগ্রেসের প্রজন্ম বদল হলেও দলের সংস্কৃতি বদল হয়নি।’’