পরনে ট্রেডমার্ক পোশাক। খাওয়ার জন্য মিনারেল ওয়াটার থেকে রকমারি রান্না। ফাই ফরমাশ খাটার জন্য এক জন সহায়ক। এ ভাবেই নাকি জেলের প্রথম রাতটা কেটেছে ধর্ষণের অপরাধে দোষী গুরমিত রাম রহিম সিংহের। সুনারিয়া জেলে নাকি তাঁকে রাখা হয়েছে ভিআইপি ব্যবস্থায়। এমনই অভিযোগ উঠেছে জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন জেল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: রাম রহিম সিংহকে ‘প্রণাম’ জানিয়েছিলেন মোদীও!

ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত এবং গ্রেফতার হওয়ার পরই ডেরা প্রধান রাম রহিমকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয় হরিয়ানার রোহতকে। প্রথমে তাঁকে পুলিশ গেস্ট হাউজে রাখার বন্দোবস্ত করা হয়। পরে রাতের দিকে তাঁকে সুনারিয়া জেলে পাঠানো হয়।

অভিযোগ, জেলেও নাকি ‘বাবা’র অপার মহিমার ঝলক দেখা যাচ্ছে। তার জন্য বিশেষ সেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানে। তাঁর যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয়, সে জন্য নানা রকম ভিআইপি সুযোগ সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, খাবার জন্য আসছে মিনারেল জলের বোতল। ‘বাবা’কে দেখাশোনা করার জন্য নাকি এক জন সহায়কেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে!

আরও পড়ুন: চলছে সেনা টহল, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পঞ্চকুলা

নিয়ম অনুযায়ী কয়েদিদের সাধারণত জেলের পোশাকই পরতে হয়। কিন্তু জেলে রাম রহিমকে নাকি তাঁর পছন্দসই পোশাক পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণে অভিযুক্ত এক জন আসামীর জন্য কেন এ রকম ভিআইপি বন্দোবস্ত করা হচ্ছে তা নিয়ে জেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তবে ভিআইপি ব্যবস্থা থেকে শুরু গেস্ট হাউসে রাম রহিমকে রাখার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পুলিশ প্রশাসন। রাজ্যের এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, রাম রহিমের জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়নি। ওই পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “এমন কোনও বিশেষ ব্যবস্থাই করা হয়নি। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি তাঁকে কোনও গেস্ট হাউজে রাখা হয়নি। সুনারিয়া জেলে সাধারণ কয়েদিদের মতোই আছেন তিনি।”

হরিয়ানার মুখ্যসচিব ডি এস ধেসি এ দিন জানান, ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরই রাম রহিমের জেড প্লাস সিকিউরিটি তুলে নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, “কোনও ভিআইপি বন্দোবস্ত করা হয়নি রান রহিমের জন্য।সাধারণ কয়েদিদের মতোই তাঁকে রাখা হয়েছে। খাবার দেওয়া হচ্ছে অন্য কয়েদিদের মতোই।”