বিহার ফিরছে বিহারে! একটার পর একটা অপরাধ হয়েই চলেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বিহার পুলিশ। ব্যবসায়ীদের উপরে নিয়মিত হামলা করছে তারা। গত ২৪ ঘণ্টায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হয়েছেন দুই ব্যবসায়ী। গুলিতে আহতের সংখ্যা ৩।

গত কাল রাতে সমস্তিপুরের বঙ্গারা থানা এলাকার কোঠিয়া বাজারে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুষ্কৃতীরা। মৃত ব্যবসায়ীর নাম পঙ্কজকুমার শাহ। একটি গাড়িতে চেপে চার-পাঁচ জন দুষ্কৃতী রাতে দোকানে হামলা চালায়। সে সময়ে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। কেন হামলা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, লুঠপাট চালাতেই হামলা করেছিল দুষ্কৃতীরা। গুলি চালানোর পরে দুষ্কৃতীরা বৈশালীর দিকে চলে যায়।

সমস্তিপুরের ঘটনা যখন ঘটছে প্রায় সেই সময়েই গোপালগঞ্জ জেলার কটেয়া থানার রসোতি গ্রামে স্বর্ণ-ব্যবসায়ী পিতা-পুত্রের উপরে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই ছেলের মৃত্যু হয়। মৃতের নাম অভিষেক বর্মা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা নন্দলাল বর্মাকে গোরখপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। সঙ্গে অলঙ্কারের একটি ব্যাগ ছিল। দুষ্কৃতীরা সেই ব্যাগটি ছিনিয়ে নিতে গেলে তাঁরা বাধা দেন। এরপরেই দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। ঘটনার প্রতিবাদে আজ সকাল থেকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এরই পাশপাশি মুজফফরপুরের সাহেবগঞ্জ থানার রাজেপুর গ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে জখম ভাই-বোন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। গুলি করার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত নয় পুলিশ। অপরাধীদের হাত থেকে বাদ যাচ্ছেন না রাজনৈতিক নেতারাও। সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী মঞ্জু বর্মার গাড়িতে হামলা করে এক দল দুষ্কৃতী। আজ সমস্তিপুরের মহিউদ্দিননগরের বিধায়ক এজ্জা যাদবকে ফোন করে গুলি করার হুমকি দিয়েছে অপরাধীরা। এর আগে লোক সমতা পার্টির সুধাংশু শেখর এবং আরও এক আরজেডি বিধায়ককে গুলি করে খুন করার হুমকি দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। কংগ্রেস নেতা প্রেমচন্দ মিশ্রের বক্তব্য, মহাজোট সরকার ভেঙে বিজেপির সঙ্গে নীতীশ কুমার জোট গড়ার পরেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। সরকার দুর্বল বুঝতে পেরেই অপরাধীরা নতুন করে মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে।