দিওয়ালি না মেটা পর্যন্ত দিল্লিতে বাজি বিক্রি বন্ধ রাখার যে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, সেই নির্দেশকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের। পরিবেশ দূষণ রুখতে সুপ্রিম কোর্ট যে পদক্ষেপ করল, সেই পদক্ষেপে সাম্প্রদায়িক রং লাগানোর চেষ্টা দেখে গভীর আক্ষেপ ব্যক্ত করল সর্বোচ্চ আদালত। বাজি বিক্রিতে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, তা প্রত্যাহারের আর্জিও শুক্রবার আদালত খারিজ করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: 

শ্রীলঙ্কায় চিনা প্রকল্পের গায়েই এয়ারপোর্ট গড়বে ভারত, অস্বস্তিতে বেজিং

মুসলিম মেয়েদের জন্য মোদীর ‘গিফ্ট’: স্নাতক হয়ে বিয়ে করলে ৫১ হাজার

সুপ্রিম কোর্ট ৯ অক্টোবর নির্দেশ দিয়েছিল, ১ নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লিতে এবং সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে বাজি বিক্রি করা যাবে না। প্রতি বছরই দিওয়ালির সময় শব্দবাজি এবং আতসবাজির দাপটে প্রবল দূষণ ছড়ায় রাজধানীতে। গত বছর দিওয়ালির পর দূষণে এত ভারী হয়ে গিয়েছিল দিল্লির বাতাস যে, অনেকেইশ্বাসকষ্টে ভুগেছিলেন। রাজধানীর আকাশ জুড়ে বেশ কয়েক দিন ছিল ধোঁয়াশা। তাই এ বার বাজি বিক্রি বন্ধ রেখে সুপ্রিম কোর্ট পরখ করে নিতে চায়, দিওয়ালিতে বাজি না পুড়লে কতটা ফারাক হয় দূষণ পরিস্থিতিতে।

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ অবশ্য অনেকেরই পছন্দ হয়নি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে আর্জিও জমা পড়েছিল। শুক্রবার সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ফের জানিয়েছে, ১ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর কোনও এলাকায় বাজি বিক্রি করা যাবে না।

এই রায় দিতে গিয়েই সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার ‘সাম্প্রদায়িকতা’ সংক্রান্ত মন্তব্য করেছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে যে ভাবে সাম্প্রদায়িক রং লাগানোর চেষ্টা হয়েছে, তাতে আদালত ‘ব্যাথিত এবং দুঃখিত’, মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের।

দিওয়ালির আগে দিল্লিতে বাজি বিক্রির উপর সুপ্রিম কোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝ়ড় ওঠে। এই রায়কে অনেকেই স্বাগত জানান। কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, হিন্দুদের উৎসবের উদযাপনে কেন এমন বিধিনিষেধ? ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়ও এই বিতর্কে ঢুকে পড়েন। টুইটারে তাঁর কটাক্ষ ছিল— এর পয় হয়তো মৃতদেহ দাহ করার বিরুদ্ধেও আদালতে আবেদন জমা পড়বে। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে এমন সাম্প্রদায়িক বিতর্কে বিস্মিত দেশের সর্বোচ্চ আদালত।