গ্রেফতারির তিন ঘণ্টার মধ্যেই জামিন। ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ মাথায় নিয়েও তাই তিনি ‘কিংগ্ অব গুড টাইমস’। ভাল সময় তাঁর পিছু ছাড়ে না।

গত ১৮ এপ্রিল লন্ডনে গ্রেফতার হন ভারতের অন্যতম বিতর্কিত বিজনেস টাইকুন, কিংফিশার কর্তা বিজয় মাল্য। ভারতে ন’হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপ-সহ একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছিলেন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। কিন্তু গ্রেফতারির ৩ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই জামিনে মুক্তিও পেয়ে যান তিনি। এই ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে কেউ বলছেন ‘দু’মিনিটের নুডুলস’, তো কেউ বলছেন ‘আলো নয়, চিতা নয়, দ্রুততার আর এক নাম বিজয় মাল্য’।

আরও পড়ুন: লন্ডনে গ্রেফতার বিজয় মাল্য, তিন ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে মুক্ত

মাল্যের গ্রেফতারির সাফল্য নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে সময় নষ্ট না করেই ময়দানে নেমে পড়ে কেন্দ্রের শাসক ও বিরোধী পক্ষ। ১৭টি ব্যাঙ্ক থেকে কিংফিশার এয়ারলাইন্সের জন্য ন’হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে মেটাতে না পারায় ২০১৬-র মার্চ মাসেই দেশ ছাড়েন বিজয় মাল্য। পলাতক ঘোষণা করা হয় মাল্যকে। বিরোধীরা সেই সময় অভিযোগ করেছিলেন, মোদী সরকারের সহযোগিতাতেই নিরাপদে দেশ ত্যাগ করতে পেরেছেন মাল্য। কেন্দ্রের তরফে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাল্যর প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়। কংগ্রেসের দাবি ছিল, তাদের চাপে পিছু হঠেই মাল্যকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে কেন্দ্র। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাতে সিলমোহর দিলে মাল্যর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। ফলে গত মঙ্গলবার মাল্যর গ্রেফতারিতে দু’দলই নিজেদের সাফল্যের শিরোপা পরতে উদ্যোগী হয়েছে।

প্রক্রিয়া শুরু হলেও, লন্ডন থেকে ভারতে প্রত্যর্পণের ইতিহাস কিন্তু তেমন উজ্জ্বল নয়। ভারত-ব্রিটেনের মধ্যে প্রত্যার্পণ চুক্তি হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। ২৪ বছরে ভারত থেকে পালিয়ে গিয়ে লন্ডনে আশ্রয় নেওয়া অপরাধীর সংখ্যা একাধিক। কিন্তু তাঁর মধ্যে মাত্র একজনকেই ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল লন্ডন। গত বছর গুজরাত দাঙ্গায় অভিযুক্ত সমীরভাই ভিনুভাই পটেলকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তার আগের কয়েক বছরে ছ’জনের প্রত্যর্পণের আর্জি খারিজও করেছে ব্রিটেন। এই মুহূর্তে ব্রিটেনে মাল্য ছাড়াও আরও ন’জনকে প্রত্যর্পণের আর্জি পড়ে আছে। এ ছাড়া আইপিএল কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ললিত মোদীও ব্রিটেনে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর জন্য যদিও প্রত্যর্পণের আর্জি জানায়নি ভারত।

তখন সুদিন। কিংফিশার বিমানের সামনে বিজয় মাল্য। ফাইল চিত্র।

সরকারি সূত্রের ব্যাখ্যা, দু’দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটেন তখনই কাউকে ভারতের হাতে তুলে দেবে, যখন ভারতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ব্রিটেনের আইনেও যথেষ্ট গুরুতর অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। বিজয় মাল্যর ক্ষেত্রে সমস্যা সেখানেই। কারণ ব্যাঙ্কের ঋণ নিয়ে তা না মেটানো যথেষ্ট বড় অপরাধ বলে ব্রিটেনে বিবেচিত হয় না। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, মাল্যর প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত ও ব্রিটিশ সরকার নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে চলছে। কিন্তু প্রবীণ আইনজীবীরা বলছেন, মাল্যর মামলাটি ব্রিটিশ প্রশাসন আদালতের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। ফলে বল এখন আদালতের কোর্টে। সরকারের খুব একটা কিছু করার নেই।

ফলে বলা যেতেই পারে, বিজয় মাল্যকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এই মুহূর্তে বিশ বাঁও জলে।

এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক দেশের কোন ব্যাঙ্ক থেকে কত কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন কিংফিশার সুপ্রিমো। তালিকায় রইল সর্বাধিক ঋণ নেওয়া প্রথম ১৪টি ব্যাঙ্ক—