নিজের বাড়িতে গাছ লাগাবেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। সেই গাছ থেকে তৈরি হবে আলো। কারণ গাছ আসলে গাছ নয়, সোলার পাওয়ার ট্রি। ধাতব গাছের ডালে সোলার প্যানেলের সজ্জা। দুর্গাপুরের বাঙালি বিজ্ঞানী শিবনাথ মাইতি এই সৌরবিদ্যুৎ-বৃক্ষ তৈরি করেছেন। একটি গাছ থেকে পাঁচ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি হয়। তা থেকে গ্রামে অন্তত পাঁচটি বাড়িতে আলো জ্বলতে পারে। রাজধানীর তিস জানুয়ারি মার্গে মন্ত্রীর বাংলোতে অনেকখানি বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

কিন্তু বাড়ির ছাদের বদলে ধাতব গাছে সোলার প্যানেল লাগানো কেন?

দুর্গাপুরের সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিএমইআরআই)-এর সিনিয়র সায়েন্টিস্ট শিবনাথবাবুর বক্তব্য, এতে কম জমি লাগে। ধাতব গাছের ডালে এমন ভাবে সোলার প্যানেল সাজানো থাকে যাতে সারা দিন ধরে সূর্যের আলোও পুরোপুরি ব্যবহার হয়। এমনিতে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করতে পাঁচ একর জমি লাগে। যার অর্থ ১০ হাজার মেগাওয়াটের জন্য

৫০ হাজার একর জমি প্রয়োজন। সোলার পাওয়ার ট্রি বসাতে মাত্র চার বর্গফুট জমি প্রয়োজন। তাই রাস্তার ধারে বা যেখানে ছাদে বা অন্য কোথাও সোলার প্যানেল বসানোর জায়গার অভাব, সেখানেও এই সোলার পাওয়ার ট্রি বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাঁচ কিলোওয়াটের বিদ্যুৎ বৃক্ষ তৈরিতে খরচ প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু বেশি সংখ্যায় তৈরি হলে দামও কমবে।

কয়েক মাস আগে সিএসআইআর (কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ)-এর অধীন দুর্গাপুরে ওই সংস্থায় গিয়েছিলেন হর্ষ বর্ধন। তখনই ওই সোলার পাওয়ার ট্রি দেখে তাঁর পছন্দ হয়ে যায়। বলেন, ‘‘আমার বাড়ির জন্য এমনই একটা চাই।’’ সেইমতোই আগামিকাল তাঁর বাড়িতে এটি চালু হচ্ছে। দিল্লিতে সিএসআইআর-এর সদর দফতর অনুসন্ধান ভবনেও একটি বিদ্যুৎ-বৃক্ষ বসানো হয়েছে। সিএমইআরআই-এর বিজ্ঞানী রুদ্রপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় বলেন, সৌর প্যানেলে ধুলোময়লা জমায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। তাই এই গাছে জল ছড়ানোরও ব্যবস্থা রয়েছে।

আরও খবর...

মুখ পুড়ল বিজেপির, অরুণাচল কংগ্রেসের