গত লোকসভার ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করেই অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) তৈরির দাবি জানিয়ে সরব হলেন শিলচরের কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব। আজ লোকসভায় এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গত লোকসভা নির্বাচনে যাঁদের ভোটে অসমের ১৪ জন সাংসদ এই সভার সদস্য হয়েছেন, সেই ভোটারদের একাংশের নাগরিকত্ব নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলা একেবারেই অযৌক্তিক।

এ দিকে, অসমে এনআরসির প্রথম খসড়া প্রকাশের পর আজ দ্বিতীয় দিন। গত কাল থেকেই দেখা গিয়েছে, খসড়ায় একাধিক অসঙ্গতি। বহু ভিভিআইপি নাগরিকেরই নাম নেই খসড়ায়। আজও সেই ভুলের ধারা অব্যাহত। জানা গিয়েছে, খসড়ায় নাম নেই বটদ্রবার বিধায়ক আঙুরলতা ডেকা, প্রাক্তন বিধায়ক রুমি নাথ, হাবুল চক্রবর্তী, আবু তাহের ব্যাপারি, ডিমাসা রাজার দেওয়ান বাড়ির সদস্যদের। অসমীয় পদবীধারীদের চিন্তা না থাকলেও, বাঙালি হিন্দু-মুসলমানদের আশঙ্কা কাটছে না। সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলিতে খসড়ায় নাম অন্তর্ভুক্তির হার ৩৩-৪৫ শতাংশ। খসড়া প্রকাশের পর দ্বিতীয় দিনে এই সব এলাকার এনআরসি সেবাকেন্দ্রে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতোই। এ দিকে, তালিকায় নাম থাকা বা না-থাকা নিয়ে ‘সরকারি চক্রান্ত’-এর আশঙ্কা করছে বাঙালি অধ্যুষিত বরাকের নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটি। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনও আগামী বৃহস্পতিবার নাগরিক সভার ডাক দিয়েছে। কাছাড়, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দির জেলাশাসকের কাছে স্মারকপত্রও দেবে তারা।

তবে এ দিনও রাজ্যের এনআরসি কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলা অভয় দিয়েছেন, নাম না থাকলে বা নথিপত্রে সমস্যা থাকলে সেবাকেন্দ্রের কর্মীরাই যোগাযোগ করবেন। সময় মতো জেলাভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হবে। তিনি জানান, পঞ্চায়েতে প্রমাণপত্র দেওয়া ৪৮ লক্ষ বিবাহিতার নথি যাচাই করা যায়নি। তাই প্রথম খসড়ায় তাঁদের নাম নেই। নামের বানান বা অন্য কোনও ভুল থাকলেও সেবাকেন্দ্রে আবেদন করা যাবে। সরকারের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দ্বিতীয় খসড়া, প্রয়োজনে তৃতীয় খসড়াও প্রকাশিত হবে।