সকালে কোচের তৈরি ফুটবলার তালিকা বদলে গেল সন্ধ্যায়। শেষ পর্যন্ত চোট নিয়েই আজ রবিবার আইজলের বিমানে উঠে পড়ছেন উইলিস প্লাজা। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো প্রথম তালিকা থেকে বাদ পড়লেন সুরাবুদ্দিন মল্লিক। এই নাটকের মধ্যেই আজ দুপুরে শহরে আসছেন ডুডু ওমেগবেমী।

খালিদ জামিলের তুকতাক না,  প্লাজার ইচ্ছে শক্তি কোনটা শেষ মুহূর্তে বিদেশি ফুটবলারটির অন্তর্ভুক্তিতে কাজ করেছে বোঝা যাচ্ছে না। তবে ক্লাব সূত্রের দাবি, চোটের জন্য শনিবার সকালে বারাসত স্টেডিয়ামে পুরো অনুশীলন করতে পারেননি লাল-হলুদের বিদেশি স্ট্রাইকার। দুপুরে তাঁকে পাঠানো হয় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার না কি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ফুটবলারকে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন খেলার। প্লাজা ফোন করে কোচকে সেটা জানানোর পরই খালিদ রাজি হয়ে যান দলে নিতে। পাশাপাশি অবশ্য এ-ও শোনা যাচ্ছে, তুকতাকে বিশ্বাসী খালিদ ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক অর্ণব মণ্ডকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন না। প্লাজাকে নিয়েই আসেন খালিদ। এটা না কি দলের ফলের পক্ষে কাজ করছে। সে জন্যই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ঘটনা যাই হোক, ইস্টবেঙ্গল পাহাড়ে পৌঁছোনোর আগেই অবশ্য আইজল বড় জয় পেল চেন্নাই এফ সি-র বিরুদ্ধে। নিজেদের মাঠে শনিবার তাঁরা ২-০ হারায় চেন্নাইকে। এবং সেই জয়ের পর আল আমনাদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের ম্যাচ  খেলতে নামার আগেই আইজলের পর্তুগিজ কোচ পাওলো মেনেজেস যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছেন। এ দিন ম্যাচের পর তাঁর মন্তব্য, ‘‘ইস্টবেঙ্গল ভাল দল। আমাদের চেয়ে বেশি ম্যাচ জিতেছে। লিগ টেবলে ভাল জায়গায় আছে। তবুও ওদের হারাব। যেভাবে  আজ চেন্নাইকে এবং আগে লিগে শীর্ষে থাকা মিনার্ভা পঞ্জাবকে ঘরের মাঠে  হারিয়েছি সে ভাবেই ইস্টবেঙ্গলকে হারাব। আমরাই এ বার চ্যাম্পিয়ন হব।’’ খালিদ গতবারই যে মাঠে খেলে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন করে এসেছেন আইজলকে। পুরানো দলের বিরুদ্ধে খেলতে প্রথম বার সেখানেই যাচ্ছেন খালিদ। ফলে বেশ চাপে ইস্টবেঙ্গল কোচ। কোনও ঝুঁকিই তিনি নিতে চাইছেন না। এই ম্যাচ না জিতলে খেতাব যুদ্ধে অনেকটাই পিছিয়ে পড়বে ইস্টবেঙ্গলে। এরপরই তো আবার ডার্বি।

এ দিকে এ বারের আই লিগে অনূর্ধ্ব ১৭ যুব বিশ্বকাপের দলকে ইন্ডিয়ান অ্যারোজ নাম দিয়ে খেলাচ্ছে ফেডারেশন। মূলত অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই এই সিদ্ধান্ত। সেই দলের গোলকিপার কোচ ইউসুফ আনসারি রেফারিকে নোংরা গালাগালি দেওয়ায় তাঁকে চার ম্যাচ সাসপেন্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। লুই নর্টন দ্য মাতোসের অ্যারোজে শুধু শিক্ষার্থী ফুটবলাররা খেলছে তাই নয়, খোদ ফেডারেশনের দল এটি। ফলে পুরো ধটনায় বেশ অস্বস্তিতে কর্তারা। ইম্ফলে নেরোকা ম্যাচে পালসান মোজেস রাজকে অকথ্য গালাগালি দেন ইউসুফ। ইউসুফকে লালকার্ড দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠেছে, ছাত্র ফুটবলারদের টিমের একজন কোচ কীভাবে এই আচরণ করেন।

অ্যারোজের কিপার কোচ ছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে না আসায় নেরোকা কোচ গিফট রাইকেনকে কুড়ি হাজার টাকা জরিমানা করেছে আই লিগ কমিটি। সমপরিমান জরিমানা করা হয়েছে মিনার্ভা পঞ্জাবের মালিক রাহুল বাজাজকে। তিনিও রেফারিকে গালাগালি দিয়েছিলেন।