মাত্র চার বছরের পুরনো ক্লাবের ফুটবলারদের জন্য ১৩০ বছর আগের পোশাক!

অভিষেকের আইএসএলে মাঠে নামার আগেই চমক বেঙ্গালুরু এফসি-র। শুক্রবার দুপুরে জুহুর পাঁচতারা হোটেলে আইএসএলের বিশেষ অনুষ্ঠানে টাক্সেডো ব্লেজার পরে এসে চমকে দিলেন কোচ আলবের্তো রোকা, জন জনসন ও নিশু কুমার।

১৮৮৭ সালে ইংল্যান্ডে ডিনার সুট হিসেবে প্রবল জনপ্রিয় হয়েছিল টাক্সেডো। এক বছরের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে মার্কিন মুলুকে। ১৩০ বছরের পুরনো পোশাক বেছে নেওয়ার কারণ কী? বেঙ্গালুরুর এক কর্তা বললেন, ‘‘আইএসএলের পার্টি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য ফুটবলাররা কী পোশাক পরবেন তা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই পরীক্ষানিরীক্ষা চলেছে। শেষ পর্যন্ত টাক্সেডো ব্লেজারকেই চূড়ান্ত করা হয়। প্রাচীন হলেও এর অভিনত্বই আলাদা।’’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘‘জার্সিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত বছর পর্যন্ত গাঢ় নীল জার্সি ছিল আমাদের। এ বার তার সঙ্গে গোলাপি রংয়ের হাল্কা স্ট্রাইপ থাকছে।’’   

বেঙ্গালুরুর পোশাকের মতোই চমক ছিল শুক্রবার মুম্বইয়ের আবহে। হোটেলের লবিতে গল্পে মেতে উঠেছিলেন কেরল ব্লাস্টার্সের ইয়ান হিউম, বেঙ্গালুরু এফসি-র জন জনসন, চেন্নাইয়িন এফসি গোয়ার ব্রুনো পিনেইরো, পুণে সিটি এফসি-র মার্সেলিনো, মুম্বই সিটি এফসি-র লুসিয়ান গোইয়ান-রা। দেখে বোঝার উপায় নেই আর সাত দিন পরেই খেতাবের লড়াইয়ে তাঁরা একে অপরের প্রতিপক্ষ।

ব্যতিক্রম ছয় দলের কোচ।

আরও পড়ুন: আইএসএল দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় খুশি হিউমরা

বেঙ্গালুরু এফসি-র আলবের্তো রোকা থেকে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া চেন্নাইয়ের জন গ্রেগরি বা পুণের রানকো পোপোভিচ। আইএসএলের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই যেন স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছেন। কখনও টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যদের সঙ্গে। কখনও আবার সহকারীদের সঙ্গে একান্তে আলোচনা সেরে নিলেন। তাঁদের আইএসএল যেন এ দিন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

আইএসএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই বিশেষ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল টুর্নামেন্টের আয়োজক আইএমজিআর। শুক্রবার মুম্বইয়ে প্রথম দফায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ছয় দলের কোচ ও দু’জন করে ফুটবলারকে। রবিবার কলকাতায় দ্বিতীয় পর্বে হাজির থাকবে এটিকে, জামশেদপুর এফসি ও নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি।

সকাল এগারোটা নাগাদ প্রথমে মঞ্চে ডাকা হল এফসি গোয়াকে। কোচ সের্জিও রদরিগেজ ১৯৯৭ সাল থেকে টানা ন’বছর বার্সেলোনার যুব দলের দায়িত্বে ছিলেন। এক বছর বার্সেলোনা ‘সি’ দলেরও কোচিং করিয়েছেন। লিওনেল মেসি, আন্দ্রে ইনিয়েস্তাদের উত্থান খুব কাছ দেখা কোচকেও রীতিমতো উদ্বিগ্ন দেখাল। প্রথমত কিংবদন্তি জিকো-র জায়গায় তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন গোয়া কর্তারা। দ্বিতীয়ত, ১৯ নভেম্বর প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ চেন্নাই। দু’বছর আগে ঘরের মাঠে যাদের বিরুদ্ধে হেরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছিল গোয়ার। এ বার আবার চেন্নাইয়ের ঘরের মাটিতে ম্যাচ। সের্জিও খোলাখুলি বললেন, ‘‘আমি রীতিমতো গবেষণা করেছি আইএসএলের সব কটি দলকে নিয়ে। আমরা এ বছর প্রত্যেকটা ম্যাচই অঙ্ক করে খেলতে চাই। ফুটবলারদের বলেছি, ম্যাচের শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কোনও অবস্থাতেই যেন লড়াই থেকে সরে না আসে।’’ আর জিকোর উত্তরসূরি হওয়ার চাপ? সের্জিও-র কথায়, ‘‘চাপ নয়, আমি এই দায়িত্বটাকে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি। জিকো এই দলটাকে গড়ে তুলেছে। আমি ভাগ্যবান ওঁর মতো কিংবদন্তির বিকল্প হিসেবে গোয়া কর্তারা আমাকে বেছে নিয়েছেন।’’

সের্জিও-র পরে মঞ্চে উঠলেন বার্সেলোনার আরও এক প্রাক্তন। তিনি— বেঙ্গালুরুর কোচ আলবের্তো রোকা। আইএসএলে অভিষেকের আগে রীতিমতো উত্তেজিত ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের প্রাক্তন সহকারী। খোলাখুলি বললেন, ‘‘প্রথম বছর আমরা আইএসএলে খেলছি। তাই প্রচণ্ড উত্তেজিত।’’ চতুর্থ আইএসএলে বেঙ্গালুরু খেতাবের অন্যতম দাবিদার বলে মনে করছেন অন্য কোচেরা। রোকা কিন্তু সতর্ক। সুনীল ছেত্রীদের বললেন, ‘‘আমি এ সব নিয়ে ভাবতে চাই না। আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই’’ রোকা অবশ্য কিছুটা হতাশ কলকাতার দুই প্রধান ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান টুর্নামেন্টে না থাকায়। বললেন, ‘‘ভারতীয় ফুটবলে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের অবদান অস্বীকার করা যাবে না। ওরা থাকলে আরও আকর্ষণীয় হতো আইএসএল। আশা করছি, পরের বছর হয়তো ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান খেলবে আইএসএলে।’’

পুণের নতুন কোচ সার্বিয়ার পোপোভিচ আবার টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই হুঙ্কার দিয়ে রাখলেন। বললেন, ‘‘আমার দলের প্রধান অস্ত্র আগ্রাসন। আমি নিজেকে বলতাম ডিফেন্সিভ অ্যাটাকার। আক্রমণাত্মক ফুটবলের বিকল্প যে কিছু হয় না। আইএসএলে সেটা প্রমাণ করতে তৈরি আমার দলের ফুটবলাররা।’’

মুম্বই সিটি এফসি কোচ আলেকজান্দার গুইমারেস ব্রাজিলীয় হলেও রক্ষণ শক্তিশালী করেই জয়ের জন্য ঝাঁপাতে চান। বললেন, ‘‘ব্রাজিলে জন্মালেও আমি খেলেছি কোস্তা রিকার হয়ে। ফলে কোচিং দর্শনও মিশ্র। রক্ষণ মজবুত করেই আক্রমণে উঠতে বলব ফুটবলারদের।’’

কেরলের কোচ রেনে মিউলেনস্টিনের ভিসা সমস্যা এখনও মেটেনি। মুম্বইয়ের অনুষ্ঠানে সহকারী থাংবই সিংথো আর হিউম এসেছিলেন। লেস্টার সিটি-র প্রাক্তন তারকা গত বছর এটিকে-র খেতাব জয়ের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন এ বার তিনি কেরলে। ১৭ নভেম্বর প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ পুরনো দল। হিউম বলছেন, ‘‘কেরল ব্লাস্টার্সই আইএসএলে আমার প্রথম ক্লাব। আমি যেন নিজের ঘরেই ফিরেছি। তাই কোনও সমস্যা হবে না।’’ কলকাতা ছাড়লেন কেন? হিউমের জবাব, ‘‘এটিকে যে বদলে গিয়েছে। কেরল ব্লাস্টার্স অনেক বেশি আগ্রহ দেখিয়েছিল। এ বার আমার পালা সেই মর্যাদার প্রতিদান দেওয়া।’’