বার্সেলোনা ৩ :  য়ুভেন্তাস ০

বার্সেলোনায় ফিরতেই অপ্রতিরোধ্য লিওনেল মেসি!

সপ্তাহখানেক আগে বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন পর্বে আর্জেন্তিনা বনাম ভেনেজুয়েলা ম্যাচে মেসিকে দেখে মনে হয়েছিল, চক্রব্যূহ থেকে বেরোতে না পেরে ছটফট করছে। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে য়ুভেন্তাসের বিরুদ্ধে কিন্তু চেনা মেসিকে দেখা গেল। সেই বল ধরে বিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যাওয়া। আঠারো গজ বক্সের বাইরে থেকে মাথা ঠান্ডা রেখে বল জালে জড়িয়ে দেওয়া। এ হচ্ছে সেই মেসি যাকে আটকে রাখা অসম্ভব।

য়ুভেন্তাস ম্যানেজার মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি মূলত দু’টো স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠে নেমেছিল— এক) মাঝমাঠে ফুটবলারের সংখ্যা বাড়িয়ে মেসির ছন্দ নষ্ট করে দেবে। দুই) গঞ্জালো হিগুয়াইনকে ফরোয়ার্ডে একা রেখে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করবে।

আরও পড়ুন: নতুন নেমার ফুল ফোটাবে

যদিও তাঁর সমস্ত পরিকল্পনাই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কারণ বার্সেলোনা আর আর্জেন্তিনা যে এক নয়, সেটা মনে হয় ইতালীয় ম্যানেজার ভুলে গিয়েছিলেন। ম্যাচের পর অবশ্য আলেগ্রি তাঁর ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন দেখে ভাল লাগল। তাঁকে বলতে শুনলাম, ‘‘মেসিকে আটকানো অসম্ভব।’’ মেসিকে খেলতে না দিয়ে আর্জেন্তিনাকে আটকে দেওয়া যায়। কিন্তু বার্সেলোনার বিরুদ্ধে কোনও ম্যানেজার সেই ধারণা নিয়ে পরিকল্পনা সাজালে তাঁকে ভুগতে হবে। বার্সায় মেসির জন্য অনেক বেশি সহায়তা রয়েছে, যেটা আর্জেন্তিনার হয়ে খেলতে নামলে ও পায় না। মঙ্গলবার রাতে তাই ধাক্কা খেলেন য়ুভেন্তাস বস‌্।

নেমার দ্য সিলভা স্যান্টোস  (জুনিয়র) চলে যাওয়ার পরেও কিন্তু বার্সেলোনায় সাত-আট জন বল প্লেয়ার রয়েছে। যদিও তারা কেউ-ই রাতারাতি ব্রাজিলীয় তারকার অভাব পূরণ করতে পারবে না হয়তো। এমনকী, নেমারের বিকল্প হিসেবে সই করানো ওসুমানে দেম্বেলে-ও নয়। তবুও গুণগত মানে য়ুভেন্তাসের থেকে বার্সেলোনা অনেক এগিয়ে। ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে বড় সুবিধে হচ্ছে বিভিন্ন দেশ থেকে সেরা ফুটবলার নিয়ে এসে শক্তিশালী দল গড়া যায়। জাতীয় দল তৈরির ক্ষেত্রে সেই বিলাসিতা নেই। একটা দেশের সেরাদের নিয়েই লড়াই করতে হয়।

বার্সেলোনার আরও একটা ইতিবাচক দিক হচ্ছে, মেসি-ইনিয়েস্তারা লা মাসিয়া অ্যাকাডেমি থেকে একসঙ্গে উঠে এসেছে। ফলে ওদের মধ্যে বোঝাপড়াটা দুর্দান্ত। আর্জেন্তিনার জাতীয় দল কিন্তু পুরোপুরি মেসি- নির্ভর।

য়ুভেন্তাসের বিরুদ্ধে মেসির দু’টো গোলই সতীর্থদের সঙ্গে ওর দুর্দান্ত বোঝাপড়ার প্রমাণ। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোলটার কথা মনে করুন। আন্দ্রেয়া বারজাগালি, মাত্তিয়া দি’সিলিও ডাবল কভারিং করছিল মেসিকে। কিন্তু লুইস সুয়ারেজের কথা মনে হয় ওরা ভুলে গিয়েছিল। উরুগুয়ে তারকার সঙ্গে অসাধারণ ওয়াল পাস খেলে উঠেই গোল করল মেসি। ৬৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলও প্রায় একই রকম ভাবে করল মেসি। এ বার ওর সঙ্গী আন্দ্রে ইনিয়েস্তা। তার আগেই অবশ্য বার্সেলোনার হয়ে ব্যবধান বাড়ায় ইভান রাকিতিচ।

জিয়ানলুইজি বুফনের মতো গোলরক্ষককেও উল্টো দিকে ঝাঁপাতে বাধ্য করল মেসি। এই প্রথম বুফনের বিরুদ্ধে গোল করল মেসি। তার পর ওই উৎসবের ভঙ্গি। এ রকম আগ্রাসী ভঙ্গিতে ওকে খুব একটা দেখা যায় না। গত মরসুমে এই য়ুভেন্তাসের বিরুদ্ধে হেরেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে গিয়েছিল বার্সেলোনা। তাই হয়তো ভিতরে ভিতরে তেতে ছিল মেসি। এই কারণেই রেফারির গায়ে হাত দিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল। য়ুভেন্তাসের বিরুদ্ধে মেসি, ইনিয়েস্তা-রা কখনও নিজেদের মধ্যে দশ-বারোটা পাসের তিকি-তাকা খেলছিল। কখনও আবার ওয়ান টাচে আক্রমণের ঝড় তুলছিল। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী বারবার স্ট্র্যাটেজি পাল্টে সমস্যায় ফেলছিল য়ুভেন্তাসকে। এই ধরনের বৈচিত্র তখনই সম্ভব, যখন দলে একাধিক বিশ্বমানের
ফুটবলার থাকে।

তবে য়ুভেন্তাসের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয় দেখে বার্সেলোনা সমর্থকরা নতুন স্বপ্ন দেখছেন। আমি কিন্তু অপেক্ষা করতে চাই। এই ম্যাচে ইনিয়েস্তা, সুয়ারেজ-রা নেমারের অভাব বুঝতে দেয়নি। সেটা কি সব দিন হবে? আর একটু দেখি না।