অনুশীলনের পরেই বদলে গেল ছবিটা! তার আগে মোহনবাগানের দুই বিদেশিই ছিলেন খোশ মেজাজে।

আনসুমানা ক্রোমা খুশি তাঁর দেশ লাইবেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন একদা ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার জর্জ উইয়া। মোহনবাগানের পাঁচ নম্বর এ দিন অনুশীলনে নামার আগে বলছিলেন, ‘‘এ বার দেশটা সঠিক লোকের হাতে গিয়েছে।’’

বছরের প্রথম দিনটা আবার সনি নর্দের দেশ হাইতির স্বাধীনতা দিবস। যুবভারতী পৌঁছে সনি মোহনবাগানের ফুটবল সচিব সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে বোঝাচ্ছিলেন, পাঁচ বছর বয়সে প্রথম স্বাধীনতার দিন তিনি কেমন আনন্দ করেছিলেন। তার পরে পরিচিত সাংবাদিক দেখে ক্যাম্বিস বল পা দিয়ে নাচাতে-নাচাতে সনির রসিকতা, ‘‘ফুটবল ছেড়ে ভাবছি এই বলটা নিয়েই খেলব।’’

আরও পড়ুন: ড্র থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল

বারো ডিসেম্বর চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ৫-০ জয়ের পর প্রায় তিন সপ্তাহ জয় নেই মোহনবাগান শিবিরে। শেষ তিন ম্যাচে নষ্ট হয়েছে ছয় পয়েন্ট। যার মধ্যে এই তিন ম্যাচে মোহনবাগান গোল করেছে মাত্র দু’টো। তাও আবার পেনাল্টিতে। দু’ক্ষেত্রেই দিপান্দা ডিকার গোলের পরে পাল্টা গোল হজম করেছে মোহনবাগান। শেষ ম্যাচে ইন্ডিয়ান অ্যারোজ-এর বিরুদ্ধে একাধিক সুযোগ নষ্ট করে ড্রয়ের পর তাঁবুতে উঠে গিয়েছে সমর্থকদের ‘গো ব্যাক সঞ্জয় সেন’ ধ্বনি। মেজাজ বিগড়ে থাকা মোহনবাগান কোচ তাই মঙ্গলবার চেন্নাই সিটি এফসি ম্যাচের আগের সকালে কর্কশ সুরে বলতে থাকেন, ‘‘এই পরিস্থিতি তৈরি করেছি আমরা। সেখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা তৈরি করতে হবে আমাদের। মোদ্দা কথা, গোলে ফিরতে হবে।’’ সঙ্গে এটাও বলে দেন, ‘‘আমার কোনও মোহ নেই। যে দিন বুঝব, চলে যাব।’’

কিন্তু গোলে ফিরতে মোহনবাগান যাঁদের উপর নির্ভরশীল, সেই সনি নর্দে এ দিনও দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি। দলের ফিজিও অভিনন্দন চট্টোপাধ্যায়ের কাছেই অনুশীলন করলেন। আর বাড়ি ফেরার সময় বলে গেলেন, ‘‘চোট সারেনি এখনও। মনে হচ্ছে ডার্বি ম্যাচের আগে মাঠে নামতে পারব না।’’

আর ক্রোমা অনুশীলনের পর একা চুপচাপ বসে রইলেন মাঠে। তার পরে তাঁর আত্মসমালোচনা থেকেই বেরিয়ে এল মোহনবাগানের লিগ টেবলে পিছিয়ে যাওয়ার কারণটা। ক্রোমা বলছিলেন, ‘‘আমি, ডিকা, সনি ফর্মে থাকলে সবাই ভয় পাবে। মিডফিল্ডার ইউতার চোট। সনির চোট। আমাকেও চোট নিয়ে খেলতে হচ্ছে। তাই সেরাটা আসছে না।’’ ক্রোমা সঙ্গে এটাও বলে দেন, ‘‘মাঝমাঠ থেকে বল আসছে কম। আমি নীচে নেমে যখন বল চাইছি তখন ওরা ‘এরিয়াল’ বল খেলছে। আমি বল পাচ্ছি না বলেই ডিকাদের খেলাতে পারছি না।’’

মোহনবাগানের এই গগনে খেলা বন্ধ করতেই তাই সোমবার অনুশীলনে প্রতি-আক্রমণে জমিতে পাস খেলে উইং ধরে আক্রমণ শানানোর অনুশীলন চলল পুরোদমে। অনুশীলন থেকে যা আভাস মিলছে, তাতে চেন্নাই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে রক্ষণে স্টপার কিংশুক দেবনাথের জায়গায় আসতে পারেন রানা ঘরামি। বাকি দল এক থাকারই সম্ভাবনা।

এক মাস আগে আই লিগে যাদের হারিয়ে উৎসব করেছিল মোহনবাগান সমর্থকরা। মাস ঘুরতেই সেই ইস্টবেঙ্গল সাত ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলের শীর্ষে। সেখানে মোহনবাগান ছয় ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলে চতুর্থ স্থানে। এ দিন সেই প্রসঙ্গ উঠতেই সাংবাদিক সম্মেলনে আসা রানা বলছেন, ‘‘কোনও চাপ নেই। তফাত তো মোটে চার পয়েন্টের। তাও আমরা একটা ম্যাচ কম খেলেছি। গত কয়েকটা ম্যাচে শেষ ১৫-২০ মিনিটে আমরা সুযোগ তৈরি করেও গোল পাইনি। সেটারই মাশুল গুনছি। একটা জয় আর গোল এই ছবিটা বদলে দিতে পারে।’’

সবুজ-মেরুন শিবিরের কোচ সঞ্জয়ের মেজাজও বিগড়ে আছে ফরোয়ার্ডদের এই সুযোগ নষ্ট করার প্রতিযোগিতায়। তার উপর বিপক্ষ কোচ চেন্নাই সিটি এফসি-র কোচ ভি সৌন্দররাজন এ দিন বলে গিয়েছেন, ‘‘মোহনবাগানের ভাগ্যটা হয়তো গত কয়েক ম্যাচে সঙ্গ দেয়নি। ওরা কিন্তু বেশ ভাল দল।’’ যা শুনে সঞ্জয় বলেন, ‘‘ওটা ওঁর ব্যক্তিগত মত। ফুটবলে ভাগ্য কাজ করে এক শতাংশ। গোল করতে না পারাটা ব্যর্থতা। ওটা ভাগ্যদোষ হতে পারে না। করমর্দনের দূরত্বে গোল করা যাচ্ছে না। এটা ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই নয়। আর আমাদের সনি-নির্ভরতাও কাটাতেই হবে।’’

মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ চেন্নাই সিটি এফসি অবশ্য এই ম্যাচে তার চার বিদেশিকেই পাচ্ছে। ছয় ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে চেন্নাইয়ের দলটি আপাতত আট নম্বরে। চেন্নাই কোচ বলছেন, ‘‘শতাব্দীপ্রাচীন মোহনবাগানের ঘরের মাঠে খেলতে নামাটাই চ্যালেঞ্জ। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি।’’

মঙ্গলবার: আই লিগ: মোহনবাগান বনাম চেন্নাই সিটি এফসি (মোহনবাগান, সন্ধে ৫.৩০ স্টার স্পোর্টস টু চ্যানেলে সরাসরি)।