রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব আরেক দফায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী হলে শিলিগুড়িতে উন্নয়নের কিছু কাজ হবে বলে আশা প্রকাশ করলেন শিলিগুড়ির সিপিএম বিধায়ক তথা মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। আর তা নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।

শুক্রবার দুপুরে মেয়র পুরসভায় বসে বলেন, ‘‘এক সময় উনি উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন। পুরসভার অনুমতি নিয়ে শিলিগুড়িতে কিছু কাজ করেছিলেন। এখন তো আমাদের টাকাও দেওয়া হচ্ছে না, কোনও কাজ সরকার করছে না। গৌতমবাবু আবার উন্নয়ন মন্ত্রী বলে আশা করি কাজ হতে পারে।’’ এর পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘এটা অন্য দলের বিষয় ঠিকই। তবে শহরের উন্নয়নের না হওয়ার দায়ভার স্থানীয় মন্ত্রীরও। উনি উন্নয়ন দফতরে গেলে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবেন।’’

প্রশ্ন উঠেছে, কেন এখন হঠাৎ অশোক এই কথা বললেন। সম্প্রতি একাধিক পুরানো প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে পর্যটন মন্ত্রী গৌতমবাবুর ‘ঠান্ডা লড়াই’ চলছে। রবিবাবু বিষয়টি প্রকাশ্যেই এনেছিলেন। যা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবধি পৌঁছেছে। তিনি তারপরে দুই জনকেই সতর্ক করে দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের তিন জেলার পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস দুই জনকে একসঙ্গে বসিয়ে বৈঠকও করেছেন।

তৃণমূলের একাংশ মনে করছেন, অশোকবাবু এই সময়েই এমন মন্তব্য  করায় রবিবাবু ও গৌতমবাবুর মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করলেন। অন্য একটি মত হচ্ছে, গৌতমের ভবিষ্যতে ওই দফতরের মন্ত্রী হওয়া অনেকটাই আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলেন অশোক। তিনি অবশ্য বলেন, ‘‘আমি শহরের স্বার্থে খোলা মনেই বলেছি। শিলিগুড়িতে কাজ তো হচ্ছে না। দুই মন্ত্রীর কাজিয়া চলছে। আমরা ওই সমস্ত কাজ নিয়ে তদন্ত চাই।’’ যা শুনে পর্যটনমন্ত্রীর তড়িঘরি প্রতিক্রিয়া—‘‘ওঁকে এ সব ভাবতে হবে না। আমাকে কোনও শংসাপত্র দিতে হবে না। রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্য, পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। আমরা সবাই মুখ্যমন্ত্রীর টিমের সদস্য হিসাবে কাজ করছি।’’

সরকারের বিরুদ্ধে এদিনও আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন মেয়র। তিনি জানান, সব পুরসভা টাকা পাচ্ছে, শুধু শিলিগুড়ি বাদ। ৩০০ কোটি টাকা প্রাপ্য। পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। উনি ব্যস্ত থাকায় সময় পাইনি। মুখ্যমন্ত্রীরও সময় পাইনি। আমরা চাই, গৌতমবাবুর নেতৃত্বে সব কাউন্সিলরেরা আমরা পুরমন্ত্রীর কাছে যেতে চাই। মন্ত্রীকে চিঠিও দেব। আপাতত ১৮ জানুয়ারি রাজ্যপালকে গিয়ে পুরসভার পরিস্থিতি জানাব। কলকাতা যাওয়া নিয়ে সব কাউন্সিলরকে চিঠি দিয়েছি। আর তৃণমূলের ওয়ার্ডে কাজ হচ্ছে না, এটা ভিত্তিহীন। আমরা বোর্ড মিটিঙে নথি দিয়ে তা দেখিয়ে দিয়েছি।

গৌতমবাবুর জবাব, ‘‘পুরসভাকে রাজ্য অনেক টাকা দেয়। আর অশোকবাবুরা ক্ষমতায় থাকার সময় কী আমাদের জ্যোতিবাবু, বুদ্ধবাবুদের সঙ্গে দেখা করাতে নিয়ে যেতেন! এর কোনও প্রশ্নই নেই।’’  উদ্বোধনের পরে বন্ধ শক্তিগড় রবীন্দ্রমঞ্চের দায়িত্ব ফেরৎ নেওয়ার জন্য মেয়র উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীকেও চিঠি দিয়েছেন।