কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নন। এক জন অন্য জনকে রাজনৈতিক দলের জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে আইন-কানুন না জানার খোঁটা দেন। তাঁকে আবার পাল্টা শুনতে হয়, মন্ত্রী হয়েও কোন আদালতের কী এক্তিয়ার জানেন না!

তৃণমূল বিধায়ক মহুয়া মৈত্র এবং বিজেপি-র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের তরজা জারি থাকল বুধবারও। মহুয়ার কটাক্ষ, ‘‘আমার বিরুদ্ধে বাবুল তো মানহানির কোনও মামলা করেননি। উনি শুধু হুমকিবাজি করছেন!’’ বাবুল পাল্টা জবাব দিয়েছেন, ‘‘হুমকিবাজিটা তৃণমূলের উপরেই ছেড়ে দিয়েছি!’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র হয়েও দুর্ভাগ্যবশত উনি নিয়ম-কানুন কিছুই জানেন না! মানহানির মামলা দায়ের করার আগে আইনজীবীর নোটিস দিতে হয়। আমি নোটিস পাঠিয়েছি।’’ নোটিসে যে সময়সীমার মধ্যে মহুয়াকে ‘দুঃখপ্রকাশ’ করতে বলা হয়েছে, তা না হলেই মানহানির মামলা যথাসময়ে দায়ের করা হবে বলেও

জানাতে ভোলেননি বাবুল।

দমে যাওয়ার পাত্রী নন মহুয়াও! আইন-আদালতের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর জ্ঞানগম্যি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বাবুল মন্ত্রী হয়েও এটা জানেন না যে, তিশহাজারি কোর্টে মানহানির মামলা করা যায় না। তবে যেখানে খুশি উনি মানহানির মামলা করতে পারেন!’’ তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২৫ কোটি টাকার মানহানির মামলা করতে হলে বাবুলকেও মামলা শুরু আগে আদালতে প্রায়  ২৫ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে। এক টিভি চ্যানেলে বিতর্কে বাবুলের মন্তব্যে তাঁর সম্মানহানি হয়েছে বলে আলিপুর থানায় অভিযোগ করেন মহুয়া। পরে ওই প্রসঙ্গটিকে ‘ইয়ার্কি’ বলেই লঘু করতে চান বাবুল। মহুয়ার প্রশ্ন, ‘‘ওঁর সঙ্গে আলাপ নেই। উনি নাকি ইয়ার্কি করেছেন! আমি কি ওঁর স্ত্রী না বান্ধবী?’’ মহুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বাবুলকে বৃহস্পতিবার থানায় তলব করেছে। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির জন্য পরে এসে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন বাবুল।