দলকে না জানিয়ে সোমবার সকালে জিডি বিড়লা স্কুলের সামনে অভিভাবকদের বিক্ষোভে যোগ দিতে যান রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু অভিভাবকদের আপত্তিতে তাঁকে ফিরে যেতে হয়। সন্ধ্যায় দলের কোর কমিটির বৈঠকে তাঁকে বলা হয়, তাঁর ওই বিক্ষোভে যাওয়ার দরকার নেই। চার বছরের শিশুর যৌন হেনস্থার মতো ঘটনায় রাজনীতির রং লাগুক, দল সেটা চাইছে না। কিন্তু রূপা সাফ জানান, তিনি ফের যাবেন। ব্যক্তিগত ভাবে। মঙ্গলবার এ কথা জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। 

এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রূপা বলেন, ‘‘সোমবার কাউকে জানিয়ে ওখানে যাইনি। কিন্তু ওখানে যেতে আমাকে কোর কমিটির বৈঠকে কেউ নিষেধও করেননি।’’ রূপার যুক্তি, তিনি জিডি বিড়লা স্কুলের পাড়ায় ছোটবেলা থেকে জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। ফলে ওই বিক্ষোভস্থলে গিয়ে তিনি অন্যায় করেননি। তা ছাড়া, সাংসদ ও সমাজকর্মী হিসাবে দেশের যে কোনও জায়গায় তিনি যেতে পারেন কারও অনুমতি ছাড়াই। কিন্তু জিডি বিড়লা স্কুলের ঘটনার জেরে বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। শিশুটির বাড়িও যান। মহিলা মোর্চা এ দিন ওই স্কুলের অধ্যক্ষাকে গ্রেফতারের দাবিতে মিছিল করে। লালবাজারে অভিভাবকদের জমায়েতেও ঝান্ডা ছাড়া যোগ দেন মহিলা মোর্চার কর্মীরা। বিজেপির একাংশের প্রশ্ন, দল রূপাকে যেতে নিষেধ করল, সেখানে লকেটকে যেতে অনুমতি দিল কেন? 

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় মনে করেন, যৌন হেনস্থার মতো ঘটনায় রাজনীতির অনুপ্রবেশ বাঞ্ছনীয় নয়। তবে জিডি এবং এমপি বিড়লা স্কুলের অভিভাবকদের বিক্ষোভ তিনি সমর্থন করেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘‘অন্যায়ের প্রতিবাদে নির্দিষ্ট দাবিতে আন্দোলন নিশ্চয়ই হবে। কিন্তু তার জন্য পঠনপাঠন বন্ধ করা যায় না।’’ তবে অভিভাবকদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জেরও বিরোধিতা করেন তিনি।