চালসা, রামপুরহাট, তেহট্ট বা বহরমপুর। একের পর এক জেলা সম্মেলনের সমাবেশে চোখে পড়ার মতো ভিড়!

রাজ্য রাজনীতির বিরোধী পরিসরে দ্রুত উঠে আসছে বিজেপি। একটার পর একটা নির্বাচনে ভোট বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের। আবার অন্য দিকে শহর হোক বা গ্রামাঞ্চল, শাসক দল তৃণমূলের দাপুটে সংগঠনের রাজত্ব! এই দুইয়ের মাঝেও সিপিএমের সম্মেলনের সমাবেশে মাঠ ছাপানো ভিড় কিছুটা অক্সিজেন জোগাচ্ছে আলিমুদ্দিনকে। একই সঙ্গে তাদের ভাবতে হচ্ছে, আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে বুথ আগলানোর লোক থাকবে কত?

সিপিএম রাজ্য নেতৃত্বের বিশ্লেষণ, নির্বাচনী সভা-মিছিলে দলীয় বৃত্তের বাইরেও উৎসুক মুখ থাকে। কোনও দাবি আদায়ের আন্দোলনেও সমর্থন টানা যায় জনতার মধ্যে থেকে। কিন্তু দলীয় সম্মেলনের কর্মসূচিতে সচরাচর সাংগঠনিক কব্জির জোরে কর্মী-সমর্থকদেরই আনা হয়। তাঁদের মতে, সর্বত্র যখন ‘সিপিএম উঠে গিয়েছে’ জাতীয় প্রচার, তখন সাংগঠনিক শক্তিতে এই ধরনের জেলা সমাবেশ যথেষ্টই উৎসাহজনক। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, ‘‘ভোট কমেছে। সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সব জায়গায় একটা নেতিবাচক প্রচার চলছে। এই অবস্থায় কর্মী-সমর্থকদের একটা বড় অংশের মধ্যে জেদ ফিরে এসেছে। তাঁরা মন দিয়ে দলটা করতে চাইছেন।’’

উদাহরণ হিসাবে সিপিএম নেতারা রামপুরহাটের কথা বলছেন। বীরভূমে ইদানীং কালে রামনবমীর মিছিল বা অন্যান্য কর্মসূচিতে বিজেপি ভাল ভাবেই অস্তিত্ব জানান দিয়েছে। আর তৃণমূলের অনুব্রত (কেষ্ট) মণ্ডল আছেন স্বমহিমায়! কিছু দিন আগে বোলপুরে জমি সমস্যা সংক্রান্ত আন্দোলনকে ঘিরে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ করে মিছিল ডেকেও জেলা সিপিএম নেতৃত্ব তা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তাঁদের উপরে অসন্তুষ্ট হয়েছিল আলিমুদ্দিন। সেই জেলারই সম্মেলন উপলক্ষে রামপুরহাটের সমাবেশে বড়সড় জমায়েত অপেক্ষা করে ছিল সভা শেষ না হওয়া পর্যন্ত। মুর্শিদাবাদের জেলা সম্মেলন উপলক্ষে মঙ্গলবার বহরমপুরের ভিড়ের মেজাজও উৎসাহ বাড়িয়েছে সূর্যকান্ত মিশ্রদের। দলের নেতাদের দাবি, সংখ্যালঘু ও তফসিলি মানুষের একাংশ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উপরে ক্ষুব্ধ। সেই কারণে পূর্ব বর্ধমানের সমাবেশেও ভাল ভিড় আশা করছেন তাঁরা।

ভিড়ের উৎসাহের মধ্যেও সিপিএমের জন্য উদ্বেগের কারণ বুথ স্তরের সংগঠন। সামনে উলুবেড়িয়া-নোয়াপাড়ার উপনির্বাচন এবং পরে পঞ্চায়েত ভোটে ফের যার পরীক্ষা হবে! দলের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম অবশ্য বলছেন, ‘‘এ বার তরুণ প্রজন্মেরও কিছু উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, ভয় কাটিয়ে লড়াই করার জেদ বাড়ছে।’’ রাজ্য সম্পাদক সূর্যবাবুও কর্মীদের বলছেন, ভাঙড়ের মতো নানা জায়গাতেই অত্যাচার চালাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে উঠছে গাঁধীহত্যাকারীর বংশধরদের গেরিলা বাহিনীও! এই ‘দু-মুখো সাপ’কে বাংলা থেকে উৎখাত করতে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শক্তির ব্যাপক ঐক্য দরকার।

সিপিএমের পরীক্ষা অন্তহীন!