পশ্চিমবঙ্গে একটি মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল তৈরির কথা ভাবছে হিন্দুজা গোষ্ঠী।

রাজ্যে অশোক লেল্যান্ডের গাড়ি কারখানার পাশাপাশি ওই হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী হিন্দুজা কর্তারা। আজ দিল্লিতে হিন্দুজা গোষ্ঠীর এক প্রতিনিধি এই খবর জানিয়ে বলেন, ‘‘আমরা প্রাথমিক সমীক্ষা করে দেখেছি, পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে কাজ করার যথেষ্ট অবকাশ আছে। এ-ও শুনেছি, মমতা রাজ্যে স্বাস্থ্যনগরী নির্মাণের কথা ভাবছেন।’’

রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের সঙ্গে হিন্দুজাদের কথা হয়েছিল লন্ডনে। হিন্দুজাদের পাশাপাশি গৌতম আদানি পশ্চিমবঙ্গে দশ হাজার কোটি টাকা লগ্নি করতে চাওয়ায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে রাজধানীতে। আদানি বলেছেন, ‘‘আমি এক জন ব্যবসায়ী। লগ্নির ক্ষেত্রে আমার কোনও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নেই। শিল্পের উন্নয়নের অনুকূল শর্ত যেখানে পাব, সেখানেই বিনিয়োগ করব।’’ মমতা অবশ্য আদানির চিঠির ভিত্তিতে এখনই ওই শিল্প-উদ্যোগে সবুজ সঙ্কেত দেননি। আদানি কোন কোন ক্ষেত্রে কতটা বিনিয়োগে আগ্রহী, সেটাই আগে বুঝতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারি সূত্রের খবর, আদানি সৌরশক্তি প্রকল্পে যেমন বিনিয়োগ করতে চাইছেন, তেমনই তিনি আগ্রহী পশ্চিমবঙ্গের নতুন বন্দর নিয়ে। কলকাতা ও হলদিয়ার পরে রাজ্যে যে নতুন বন্দর নির্মাণের কথা হচ্ছে, তাতে যোগ দিতে জিন্দলরা সক্রিয়। তাঁদের মোকাবিলায় নেমে পড়েছেন আদানি। এর আগে দিল্লিতে দূত মারফত মমতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন আদানি। সম্প্রতি অ-বিজেপি শাসিত বেশ কিছু রাজ্যে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। যেমন ওড়িশা এবং তামিলনাড়ু।

টাটারা ইতিমধ্যেই কলকাতায় ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি করেছে। আবার মুম্বইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালের সুনাম আছে। হিন্দুজাদের সঙ্গে এর আগে লন্ডনে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল মমতার। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কিন্তু এ বার শীঘ্রই বৈঠক হতে পারে।

হিন্দুজা গোষ্ঠীর ‘ফ্ল্যাগশিপ’ সংস্থা অশোক লেল্যান্ড রাজ্যে গাড়ি কারখানা নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল আগেই। ছোট গাড়ির কারখানা না হলে বাস তৈরির কারখানা গড়ার কথাও এই সংস্থা ভাবছে বলে খবর।