বাংলাদেশে ধরা পড়ল খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তালহা শেখ ওরফে শ্যামল। বাংলাদেশের জঙ্গিমহলে সে আবার পরিচিত আবু সইদ ওরফে আবদুল করিম নামে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১টা নাগাদ বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার ওমরপুর থেকে ওই জঙ্গি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তার ডেরা ঘিরে ফেলার পরে সে কিছু অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোটরবাইকে চড়ে পালাবার চেষ্টা করে। তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিনে আটটি গুলি ও একটি ছুরি পেয়েছে পুলিশ।

তালহাকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার ২৮ জন অভিযুক্ত ধরা পড়ল। এখনও ছ’জন অভিযুক্ত ফেরার।

তালহার হদিস পেতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। বিকেলের মধ্যে নিজস্ব সূত্র মারফত এনআইএ নিশ্চিত হয়, এই আবু সইদ-ই খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার অভিযুক্ত তালহা। বছর বত্রিশের ওই যুবকের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার চরচাঁদপুর গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, জেএমবি (জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ)-র দক্ষিণ বাংলাদেশের প্রধান ছিল তালহা।

তালহাকে নিয়ে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার দু’জন এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে ধরা পড়ল। এর আগে জুলাই মাসে বাংলাদেশে ধরা পড়ে আর এক জঙ্গি নেতা হাতকাটা নাসিরুল্লা ওরফে সোহেল মেহফুজ। আবু সইদ ওরফে শ্যামল ছিল নাসিরুল্লার সহযোগী। নাসিরুল্লা ধরা পড়ার খবর পেয়ে এনআইএ-র এক অফিসার জিজ্ঞেস বলেছিলেন, ‘‘ওর সঙ্গে কি তালহা শেখও ধরা পড়েছে? তালহা তো নাসিরুল্লার ছায়াসঙ্গী।’’ কিন্তু নাসিরুল্লার সঙ্গে সে দিন তালহা ছিল না।   

সেপ্টেম্বরে কলকাতায় ধরা পড়ে খাগড়াগড় মামলার অন্যতম অভিযুক্ত বোরহান শেখ। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, বোরহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তালহার পরিবার ও গতিবিধি সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। নভেম্বরে এনআইএ-র একটি দল ঢাকায় গিয়ে সেই তথ্য দেয় বাংলাদেশ পুলিশকে। মাস খানেক আগে বগুড়াতেই সন্তান-সহ ধরা পড়ে তালহা ওরফে শ্যামলের স্ত্রী খাদিজা বিবি। ওই মহিলার বাড়ি মুর্শিদাবাদে নাকি অসমের বরপেটায়, তা নিয়ে গোয়েন্দারা ধন্দে। বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে শ্যামল পশ্চিমবঙ্গে ঢোকে ২০০৭ সালে। ২০০৯-এ সে খাদিজাকে বিয়ে করে। খাদিজার বাবা ইয়াদুলও জেএমবি-র সদস্য।

বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ২০০২-এ জেএমবি-র পত্তনের সময় থেকেই আবু সইদ ওরফে তালহা তার নেতৃত্বে থেকেছে। সে ছিল জেএমবি-র মজলিস-এ-শুরার সদস্য। ২০০৫-এর ১৭ অগস্ট বাংলাদেশে ৬০টি জেলায় একসঙ্গে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় জেএমবি। ধারাবাহিক বিস্ফোরণের এই মামলায় তালহাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। তার পরই সে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকে। ভারতে জেএমবি-র শাখা খুলে কাজ করতে থাকে সে। মধু বিক্রেতার ছদ্মবেশে তালহা নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াত বলে জানিয়েছে পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বর্ধমান তো বটেই, অসমের
বরপেটাতেও জেএমবি-র সংগঠন বিস্তারে বড় ভূমিকা নিয়েছিল এই জঙ্গি চাঁই। সংগঠনের জন্য চাঁদা তোলা ও নতুন জঙ্গিদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের দায়িত্ব ছিল তালহার।

খাগড়াগড় বিস্ফোরণের তিন মাস পর, ২০১৫-র গোড়ায় বাংলাদেশে চলে যায় তালহা। বছর দুয়েক আগে নাসিরুল্লা ওরফে সোহেল মেহফুজ নব্য জেএমবি-তে যোগ দেওয়ায় সেও একই পথ অনুসরণ করে।

শনিবার তালহাকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল কোর্টে হাজির করে ৭ দিনের হেফাজত চায় বাংলাদেশ পুলিশ। শুনানির পরে বিচারক তাঁকে তিন দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন।