বিমানবন্দর দিয়ে পাচার হওয়া সোনা ধরেন মূলত শুল্ক অফিসারেরা। বিদেশ থেকে লুকিয়ে সোনা আনার সময়ে প্রথমে শুল্ক অফিসারদের সামনেই পড়েন পাচারকারীরা।

তবে সোনা উদ্ধার আর পাচারকারী পাকড়াওয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী বা সিআইএসএফ-ও। গত এক বছরের হিসেব দিয়ে সিআইএসএফ জানাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে তারা ৩৩৫ কোটি টাকার সোনা বাজেয়াপ্ত করেছে। সব মিলিয়ে তাদের জালে ধরা পড়েছে ১৩৩৯ কিলোগ্রাম ৮৮৪ গ্রাম সোনা।

দেশের ৫৯টি বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে আধা-সামরিক বাহিনী সিআইএসএফ। বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করার সময়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের মালপত্র ও দেহ তল্লাশ করাই তাদের প্রধান কাজ। ২০১৭ সালে সেই তল্লাশির সময়ে ৫৯টি বিমানবন্দর থেকে ওই পরিমাণ সোনা তাদের হাতে এসেছে। এ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে দু’‌কোটি সাত লক্ষ টাকার রুপো এবং নগদ ১৫ লক্ষ টাকা। বাজেয়াপ্ত সোনা, রুপো, টাকা দেওয়া হয়েছে শুল্ক দফতরের হাতে।

সিআইএসএফের দাবি, গত এক বছরে বিমানযাত্রী এবং বিমানবন্দরের কর্মী-অফিসারদের ভুলে ফেলে যাওয়া যত মালপত্র তারা সযত্নে তুলে রেখেছে, (পরে তা তুলে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট যাত্রী বা কর্মী-অফিসারদের হাতে), তার বাজারমূল্য প্রায় ৪৪ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে মূলত রয়েছে মোবাইল এবং ল্যাপটপ। আস্ত ব্যাগও ফেলে রেখে যাওয়ার উদাহরণ অনেক। তবে ভুলোদের তালিকায় যাত্রীর থেকে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন বিমান সংস্থার কর্মী-অফিসারের সংখ্যা বেশি বলে জানাচ্ছে সিআইএসএফ।

এক বছরে ওই ৫৯টি বিমানবন্দরে তাদের হাতে ১২৬ জন দালাল ধরা পড়েছে বলে জানায় সিআইএসএফ। ওই দালালেরা মানুষকে ভুল বুঝিয়ে, জাল বিমান-টিকিট দিয়ে টাকা নিত। এমন প্রায় ৯৬টি জাল টিকিট-সহ যাত্রীও ধরা পড়েছেন। ব্যাগে বন্দুক ও বুলেট নিয়ে যেতে গিয়ে ধরা পড়েছেন ২২৭ জন। প্রতিবন্ধীদের দেহ তল্লাশির পদ্ধতি বদল করা হয়েছে। এমন ভাবে তল্লাশি চালানো শুরু হচ্ছে, যাতে যাত্রীর সমস্যা না-হয়। অটিস্টিকদের সঙ্গে ঠিক কেমন ব্যবহার করা উচিত, বিদায়ী বছরে তার আলাদা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে সিআইএসএফের জওয়ানদের।