পাহাড় নিয়ে তৃতীয় সর্বদল বৈঠকের এক দিন আগে আজ, সোমবার বিকেলে শিলিগুড়ি পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে জন্য শহরে যাতায়াতের রাস্তাঘাটে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে। পাহাড় ও সমতল থেকে শিলিগুড়িতে ঢোকার সব কটি রাস্তায় বসেছে অতিরিক্ত তল্লাশি কেন্দ্র। একই সঙ্গে সোমবার থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব মিটিং-মিছিল। ফলে স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে যে মিছিল করতে চেয়েছিল বিজেপি প্রভাবিত একটি সংগঠন, তারও অনুমতি দেয়নি পুলিশ।

কেন এত কড়াকড়ি? পুলিশের দাবি, আসন্ন সর্বদলে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়ে পাহাড় চেনা ছন্দে ফিরুক, সেটা মোর্চার একটি গোষ্ঠী চাইছে না। একাধিক বিরোধী দলও নজর রাখছে সর্বদলের দিকে। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, পাহাড়ের আন্দোলনকারীদের একাংশ সর্বদলের আগে-পরে কোথাও মিটিং-মিছিল করার চেষ্টা করতে পারে। হুটহাট অবস্থানে বসে নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, সে জন্য সুকনা থেকে দার্জিলিং মোড়, সেবক করোনেশন সেতু থেকে সালুগাড়া চেক পোস্ট, খাপরাইল মোড়, ঝঙ্কার মোড়ের নতুন মহানন্দা সেতু, কাওয়াখালি মোড়, ফুলবাড়ি ক্যানাল ও ইস্টার্ন বাইপাসে একাধিক ‘চেকিং পয়েন্ট’ তৈরি করা হয়েছে। এমন কড়াকড়ির ফলে কারও কারও অভিযোগ, তল্লাশির নামে টাকাও তুলছে পুলিশ। সরকারি সূত্রের খবর, অভিযোগ পেয়ে কয়েক জন পুলিশকর্মীকে অন্যত্র সরানো হয়েছে। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার নীরজ সিংহ পাশাপাশি জানিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন একটিও তল্লাশি কেন্দ্রও সরানো হবে না।

ক্ষোভ রয়েছে বাম-বিজেপির অন্দরেও। শিকাগো বক্তৃতার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১০-১১ সেপ্টেম্বর রাজ্য জুড়ে মিটিং-মিছিল করছে বিজেপি প্রভাবিত একটি কমিটি। শিলিগুড়িতে ১১ সেপ্টেম্বর বাঘাযতীন পার্কে তা হওয়ার কথা ছিল। বাম পরিচালিত পুরসভা তাদের অনুমতিও দেয়। কিন্তু পুলিশের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী যখন পৌঁছবেন, সেই সময়ে শহরে মিছিল হলে, গোলমালের আশঙ্কা রয়েছে। সর্বদলের দিন শহরে ডেঙ্গি প্রতিরোধের জন্যও মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল একাধিক সংগঠনের। পুলিশ তাতেও আপত্তি জানিয়েছে।

বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘অনুমতি দিয়েও স্থগিত রাখা হল। আশ্চর্য!’’ তাঁর কটাক্ষ, ‘‘১৫০ বছর আগে স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগোয় বক্তৃতা দেন। তখন তো আর জানা ছিল না, সার্ধশতবর্ষ উদ্‌যাপনের দিনই শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর সভা হবে!’’ পুরসভার এক কর্তা জানান, তাঁরা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিলেও তা পুলিশের অনুমোদন সাপেক্ষ। পুলিশ বাতিল করলে পুরসভার কিছু করণীয় নেই।