বৃদ্ধতন্ত্রের মৌরসি পাট্টা ভাঙতেই হবে! নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়ার জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে তৈরি করতেই হবে বলে দলে জানিয়ে দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক।

সম্মেলন-পর্বে এ বার হাফ ডজনেরও বেশি জেলায় মুখ বদলেছে সিপিএম। কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার বাদ দিলে হুগলি, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম বা কলকাতায় যাঁরা নতুন জেলা সম্পাদক হয়েছেন, তাঁরা পূর্বসূরিদের চেয়ে অনেক তরুণ। কলকাতা জেলায় এক সঙ্গে জনাদশেক বর্ষীয়ান নেতা কমিটি থেকে সরে গিয়েছেন। সর্বত্র কমিটি কত জনের এবং বয়সের ঊর্ধ্বসীমা কত হবে, বেঁধে দিয়েছিল আলিমুদ্দিন। কিন্তু দলের দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে কিছু সদস্য অভিযোগ করেছেন, বয়সের ওই রূপরেখা ‘যান্ত্রিক ভাবে’ মানতে গিয়ে কিছু যোগ্য নেতা বাদ পড়ে যাচ্ছেন। তাই সীমা শিথিল করলে ভাল হয়। সেই আর্জি এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র! তাঁর বার্তা, রাজ্য সম্মেলন থেকে নতুন রাজ্য কমিটিতে পদ আঁকড়ে থাকার জন্য কেউ যেন জোরাজুরি না করেন।

দলীয় সূত্রের খবর, রাজ্য কমিটিতে জবাবি ভাষণে বৃহস্পতিবার সূর্যবাবু বামফ্রন্টের চেয়ারম্যানকে দেখিয়ে বলেছেন, ৭৫ পেরিয়েও বিমান বসু যেমন কর্মক্ষম, সকলে তা হন না। বিমানবাবু ব্যতিক্রম। মুখ্যমন্ত্রিত্ব এবং দলের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে জ্যোতি বসু এক সময়ে বলতেন, তিনি বুঝতে পারছেন তিনি আর পারছেন না। এক দিন আসবে যখন তিনি আর বুঝতেও পারবেন না যে, তাঁকে দিয়ে আর হচ্ছে না! প্রয়াত বসুর সেই কথা মাথায় রেখে নিজেদের বিবেচনা প্রয়োগ করে তরুণদের জন্য প্রবীণদের জায়গা ছে়ড়ে দিতে বলেছেন সূর্যবাবু।

অসুস্থতার জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এ বার দলের সব কমিটি থেকেই অব্যাহতি চেয়েছেন। সেই সূত্রে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতেও ঢালাও রদবদলের সম্ভাবনা। সূর্যবাবুর এ দিনের বক্তব্যের পরে সিপিএমে জল্পনা গতি পেয়েছে, প্রবীণ কত মুখ এ বার তা হলে বাদ যাবে! রাজ্য সম্মেলনের খসড়া প্রতিবেদনের উপরে বেশ কিছু সংশোধনী জমা দিয়েছেন রাজ্য কমিটির সদস্যেরা। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁরা সংশোধনী দিতে পারবেন। তার পরে খসড়া চূড়ান্ত করবে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী।