বারবার তিন বার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার আবার পেতে চলেছেন এক জন অস্থায়ী উপাচার্যই। দু’বছর ধরে দু’জন অস্থায়ী উপাচার্য এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় চালাচ্ছেন। এ বার আসছেন তৃতীয় অস্থায়ী উপাচার্য। উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, এ বার অস্থায়ী উপাচার্য হওয়ার সম্ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহ-উপাচার্যের মধ্যে এক জনের।

২০১৫ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়ে চলে যান। সেই থেকে আজ পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চালাচ্ছেন অস্থায়ী উপাচার্যেরা। প্রথমে দু’দফায় সুগত মারজিত। তার পরে আশুতোষ ঘোষ। কলকাতার মতো প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় কেন এত দীর্ঘদিন অস্থায়ী উপাচার্যের হাতে থাকবে, কেন স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করা হবে না, শিক্ষা শিবির সেই প্রশ্ন তুলেছে বারবার। আবার প্রশ্ন উঠছে, স্থায়ী উপাচার্য নয় কেন?

স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের জন্য গত ডিসেম্বরে সার্চ কমিটি গড়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি-র চেয়ারম্যান বেদ প্রকাশের নেতৃত্বে সেই কমিটিতে ছিলেন অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার এবং ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিশেন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্সের অধিকর্তা শান্তনু ভট্টাচার্য। নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় মূল প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের উপরে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বতন রেজিস্ট্রার সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়াদ গত ৭ মার্চ শেষ হয়েছে। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের সার্চ কমিটির পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক ছিল ৮ মার্চ। সেই বৈঠক হয় নির্দিষ্ট দিনেই। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, তার পরে উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে ওই বৈঠকের বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। কারণ, ওই সময় সোমাদেবী আর রেজিস্ট্রার-পদে ছিলেন না। তাই তাঁর ডাকা বৈঠকের বৈধতা নেই বলেই উচ্চশিক্ষা দফতরের অভিমত।

তার উপরে বেদ প্রকাশও গত এপ্রিলে ইউজিসি-র চেয়ারম্যান-পদে ইস্তফা দিয়েছেন। তাই আবার উপাচার্য সার্চ কমিটি তৈরি করতে হবে বলে জানান উচ্চশিক্ষা দফতরের এক কর্তা। তাই আপাতত আরও এক দফায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চালাবেন অস্থায়ী উপাচার্যই।

আগামী মাসের ১৪ তারিখ শেষ হচ্ছে বর্তমান অস্থায়ী উপাচার্য আশুতোষবাবুর মেয়াদ। তাঁর কার্যকাল আর বাড়ানো হবে না বলেই উচ্চশিক্ষা দফতরের খবর।