বছর পনেরোর রাজিয়া (নাম পরিবর্তিত) সঙ্কল্প করেছে, কোনও অবস্থাতেই আর হার মানবে না সে। যা হওয়ার হোক, মাথা নোয়াবে না পাচারকারীদের লাগাতার হুমকির সামনে। পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগ তুলে নেওয়ার প্রশ্ন নেই।

কিন্তু পাচারকারীদের হুমকি বেড়ে চলেছে ক্রমশই। অগত্যা রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজার শরণ নিল রাজিয়া। সব শুনে উদ্বিগ্ন মন্ত্রী। এই বিষয়ে শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করার নির্দেশ দেন তিনি।

নারী ও শিশু পাচার নিয়ে গত কয়েক মাসে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে রাজ্য প্রশাসন। বিশেষত গরিব বাড়ির কিশোরী-তরুণীদের সুরক্ষা দিতে আইনরক্ষকেরা কতটা ব্যর্থ, মহেশতলা থানা এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া-উপাখ্যানে সেটা স্পষ্ট।

রাজিয়ার লড়াইটা কী রকম?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সূত্রের খবর, গরিব ঘরের মেয়ে রাজিয়া কোনও দিনই স্কুলে যায়নি। বাবা-মা ভিক্ষে করে চালান। দুরবস্থায় সুযোগ নিয়ে সুশ্রী রাজিয়াকে বছর দুই আগে ‘ভাল বিয়ের টোপ’ দেয় একটি চক্র। সেই চক্রে যুক্ত এলাকারই এক মহিলা তাকে পুণেতে নিয়ে গিয়ে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেয়। বছর দুয়েক পরে সেখান থেকে রাজিয়াকে উদ্ধার করে পুলিশ। ফিরে এসে মহেশতলা থানায় ওই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে সে। তার পরেই হুমকির মুখে পড়তে হয় ওই কিশোরীকে। রাজিয়ার কথায়, ‘‘ফোন করে ফের পাচার করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে তিন পাচারকারী জুয়েল, সাইমা বিবি এবং তার স্বামী আনসার। মহেশতলা থানায় হুমকির কথা জানিয়েছি। লাভ হয়নি।’’

পুলিশ-প্রশাসনের উপরে আস্থা খুইয়ে নারী কল্যাণ মন্ত্রী শশীদেবী সম্প্রতি রাজারহাটের একটি অনুষ্ঠানে আসবেন শুনে মরিয়া হয়েই রাজিয়া হাজির হয় সেখানে। মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে জানায়, ‘‘আমার কিছু বলার আছে।’’ শশীদেবী তার পুরো বৃত্তান্ত শোনেন। রাজ্যের শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তীর কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে বলেন তিনি। সেই অভিযোগ জানানোরই তোড়জোড় শুরু করেছে রাজিয়া।

পাচার চক্রও হুমকি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের হুমকিতে ভয় পাচ্ছেন রাজিয়ার বাবা-মা। কিন্তু রাজিয়া নিজে আর মোটেই ভয় পেতে চায় না। তার কথায়, ‘‘এক বার কাজের লোভ দেখিয়ে আমায় বিক্রি করে দিয়েছিল। আর নয়। ওরা গ্রেফতার হওয়া পর্যন্ত আমার লড়াই চলবে।’’