চলছে শাহরুখের সঙ্গে ডাবিংয়ের কাজ। ৪ অগস্ট মুক্তি পাচ্ছে তাঁর পরিচালনায় রেড চিলি এন্টারটেনমেন্টের ছবি ‘জব হ্যারি মেট সেজল’। তাঁর ফাঁকে রাত বারোটায় সাক্ষাৎকার দিতেও প্রস্তুত তিনি। ইমতিয়াজ আলি। উত্তর দেন ধীরেসুস্থে। কোনও প্রশ্নেই বিচলিত হন না।

 

প্র: ‘জব’ আর ‘মেট’ পিছু ছাড়ে না?

উ: সে রকম কিছু না। আমার পরের ছবির নাম তো ‘রেহনুমা’। আর ‘জব হ্যারি মেট সেজল’ এই নামটা যখন রণবীর বলেছিল প্রথমে সবাই ‘বকওয়াস’ বলে খুব হেসেছিল, পরে অবশ্য এই নামটাই থাকে। ‘জব হ্যারি মেট সেজল’-এ রণবীর না থাকলেও আমার ছবির নাম নিয়ে অনেক ভেবেছে।

প্র: ‘রেহনুমা’য় আবার ইমতিয়াজ-রণবীর জুটি?

উ: আমি বাজারের চাহিদা, ছবি কতটা চলবে ভেবে চরিত্র নির্বাচন করি না। স্ক্রিপ্ট অনুয়ায়ী কাস্ট করি।

প্র: আপনার অ্যাসিস্ট্যান্ট সন্তোষ, সুনয়না এখন নিজেরাই ছবি করছেন। মনে হয় না, শর্ট ফিল্ম থেকে আসা এই নতুন পরিচালকেরা আজও পছন্দমতো স্টার পান না?

উ: আমি যখন প্রথম ছবি করার কথা ভাবি, তখন আমাকেও এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সবাই তখনই বলেছিল শাহরুখকে নিয়ে ছবি করতে।

প্র: আজ তো সেটাই হল!

উ: শাহরুখ অ্যামেজিং! এত রিফ্রেশিং। শাহরুখ আর অনুষ্কার মজার কেমিস্ট্রিই এ ছবির আকর্ষণ। অনুষ্কার মধ্যে একটা ওয়ার্মনেস আছে। ও কিন্তু ভীষণ হুল্লোড়ে। তাই প়়ঞ্জাব আর ইউরোপের শ্যুটে খুব মজা হয়েছে। তবে শাহরুখের কাজের প্রতি উৎসাহ দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি। দিন-রাতের কোনও বালাই নেই। সব সময় কাজ। দর্শকদের খুব গুরুত্ব দেয় ও। হয়তো পরিবারের সঙ্গে ডিনার করতে গিয়েছে শাহরুখ, কেউ এসে সেলফি চাইল। ও প্রচণ্ড খুশি হয়ে দিয়ে দেবে। মুম্বইয়ে অনেকেই আছেন যাঁরা শাহরুখের অর্ধেকও জনপ্রিয় নন, কিন্তু দেখেছি নিজের স্টারডম নিয়ে কী অসম্ভব পজেসিভ! সেখানে শাহরুখ তাঁদের সবার চেয়ে আলাদা। ইনফ্যাক্ট, অত বড় একজন সেলিব্রিটি যে এত নর্ম্যাল একটা জীবনযাপন করতে পারে, এটা বোধহয় শাহরুখকে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না।

প্র: শাহরুখ না রণবীর অভিনেতা হিসেবে কাকে আগে রাখবেন?

উ: আমি কিন্তু দু’জনের অনেক মিল পেয়েছি। বহু অভিনেতাকে কাছ থেকে দেখেছি। কিন্তু শাহরুখ-রণবীরের মতো এমন ব্রিলিয়ান্টলি সুইচ অন-সুইচ অফ করতে কাউকে দেখিনি। শাহরুখের মতোই রণবীরও যেন কোনও ম্যাজিক জানে। দু’জনের সঙ্গে কাজ করেই দেখেছি, অসম্ভব ইমোশনাল। সিনের আগেই ওরা হয়তো স্পটবয়দের সঙ্গে
ব্যাট-বল পেটাচ্ছে। কিন্তু শটে ডাকার এক মিনিটের মধ্যেই নিজেদের বদলে নেবে। অনেককেই বলতে শুনি রণবীরকে সব সময়ই ভীষণ ফ্রেশ লাগে, পর্দায় ঠিক যেমন শাহরুখকে। এই সুইচ অন-সুইচ অফ করার অসম্ভব ক্ষমতাই এই ফ্রেশ লাগার পিছনের প্রধান কারণ।

প্র: কিন্তু ইমতিয়াজ মানেই রোম্যান্টিক ট্র্যভেলের গল্প। আপনি টাইপকাস্ট হয়ে যাচ্ছেন না?

উ: টাইপকাস্ট হলে হব। কিন্তু যে ছবি বানাতে চাই, যেটা তৈরি করে আমার মধ্যে তৃপ্তি-অতৃপ্তি দুই বোধই জাগবে আমি সেটাই করব।

প্র: অন্য কোনও জঁরের ছবি করার কথা ভাবেন?

উ: জঁর বলে কিছু হয় না। আমি কোনও দিনই ও সব ভেবে ছবি তৈরি করি না। লোকে ছবি দেখার পর একটা ক্যাটেগরিতে ফেলে দেয়। তবে আপনি ট্র্যাভেল নিয়ে বলছেন তো, একটু খেয়াল করলে বুঝবেন, ট্র্যাভেল মানুষকে খুশিমতো ভাবতে পারার দরজা খুলে দেয়। এর মধ্যে একটা ‘হিরোয়িক প্লেজার’ আছে। বেড়াতে গেলে ভাবতেই পারি,আমি চার্লস শোভরাজ। সেই ভাবনা থেকে কখন যে রোম্যান্সের জন্ম হবে কেউ জানে না!

প্র: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রেম কতটা সত্যি?

উ: একশো বছর আগেও প্রেম যা ছিল, আজও তাই। তখন ট্রাম, টেলিগ্রাম, চিঠি। এখন ফেসবুক, চ্যাট, টুইটার। তবু আজও মন ভালবাসার, ভরসার সঙ্গী চায়। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্ক নিয়ে এতটাই খুল্লামখুল্লা চর্চা হয় যে, রোম্যান্সের রহস্য যেন খুঁজে পাওয়াই যায় না। নতুন প্রজন্ম আমাদের চেয়ে অনেক একা।

প্র: আপনি নিজে কি রোম্যান্টিক?

উ: না।

প্র: তা হলে ছবিতে আপনার রোম্যান্সের ইন্সপিরেশন?

উ: নারী।

প্র: আজ জন্মদিনে কোন নারী সারপ্রাইজ দেবে?

উ: আমার মেয়ে। ও নিশ্চয়ই আমার জন্য স্পেশ্যাল কিছু রান্না করবে।

হ্যাপি বার্থ ডে ইমতিয়াজ!