মন ভাল থাকলে একা-একা গুনগুন করে বিড়াল। কুমার শানুর গান বিড়ালের সব চেয়ে পছন্দ। এখনও ‘সাজন’ ছবির একটা গান উঁউঁ করে গাইতে- গাইতে হাঁটছে বিড়াল। শীতের রাতের কলকাতা পুরো নিঝুম। আজ ঠান্ডাটাও পড়েছে কষে! মানুষজনের নিশ্চয়ই আজ হেব্বি শীত পাচ্ছে!

শীত পায় নাকি? মনে পড়তেই হেসে ফেলল বিড়াল। ‘কবে পেল শীত?’ ‘কে-কে শীত পেল?’ ‘কী পেল শীত?’ এমন হাজারটা প্রশ্ন করে মুকুকে নাজেহাল করে দিত ও! মুকুর ঠান্ডা বেশি! গরম কালে বৃষ্টি পড়লেও বলে, ‘ওঃ, আমার খুব শীত পাচ্ছে!’

মুকুর জন্য সব করতে পারে বিড়াল! আঠেরো বছর বয়সে মুকুকে এক বার দেখেই সেই যে ‘সিলিপ’ করে প্রেমে পড়েছিল, তার পর থেকে আজ পর্যন্ত আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি! তবে মুকু যে ওকে একদম ভালবাসে না, সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছে। বলেছে, ‘দূরে থাক, দূরে থাক। কাছে আসবি না। আমার অন্য ছেলেকে পছন্দ। তুই কে? কী অধিকার তোর? দূর হ!’

তা দূরেই থাকে বিড়াল। তার মধ্যেই যখন এট্টু কথা বলার সুযোগ পায় তখন হাসি-ঠাট্টা করে। খেপায়! তার পর আবার দূরে সরে যায়! আর মনে- মনে প্রস্তুতি নেয়।

পগাদা বলেছে, বাঁশদ্রোণীর কাছে একটা গ্যারেজে স্পেস দেখে দেবে। সেখানে মোমোর দোকান দেবে বিড়াল। বাঙালি এখন উন্নত হয়ে গিয়েছে। রোল তার রোচে না। মোমোর মধ্যে বেশ একটা জ্যাকি চ্যানের ব্যাপার আছে। বাঙালির পছন্দ! তা ছাড়া, মুকুও মোমো পছন্দ করে!

দোকানটার জন্য পগাদা বলেছে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা লাগবে! বহুত টাকা। এখনও পর্যন্ত বিড়াল পৌনে চার মতো জমিয়েছে। কাজে মন না দিলে মুকুর বাচ্চারা এসে ওর দোকানে মোমো খাবে।

দূর থেকে বাড়িটা দেখতে পেল বিড়াল। কলকাতায় এমন বাড়ি এখন আর চট করে দেখা যায় না। চারিদিকে পাঁচিল ঘেরা, সামনে বাগানওয়ালা বাড়ি। আশেপাশের লম্বা হিলহিলে দীপিকা পাড়ুকোনের মতো ফ্ল্যাট-বাড়িগুলোর মাঝে এ যেন সেভেন্টিজের হেমা মালিনী!

দাদ্দু বলেছে, ‘যাবি, কাজ সেরে বেরিয়ে আসবি। আশেপাশের কেউ বাগড়া দেবে না!’

কথাটা ঠিক। এই শীতের রাতে কার ঠেকা পড়েছে এসে বাগড়া দেওয়ার!

যে কোনও অপারেশনে বিড়াল একাই বেরোয়। দাদ্দু ওর স্পটার। গোটা দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে ঘুরে বেড়ায় দাদ্দু। খোঁজ নেয়, কোন ফ্ল্যাট খালি আছে। কোন বাড়িতে কে বেড়াতে গিয়েছে! কার বাড়িতে কত দিন লোক থাকবে না! আর এসে সেই সব খবর দেয় বিড়ালকে।

‘বিড়াল’ নামটা দাদ্দুই দিয়েছে ওকে। ওর ফরসা, বেঁটে চেহারা আর বিড়াল-চোখ দেখে প্রথম দিনই দাদ্দু বলেছিল, ‘শালা এ তো পুরো বিড়াল!’

কথাটা ভুল নয়। শুধু দেখতে নয়, ওর হাবভাবও বিড়ালের মতো। যে কোনও জায়গা বেয়ে উঠতে পারে ও। দোতলা থেকে পড়ে গেলেও বিশেষ ব্যথা-ট্যাথা লাগে না! জানলা, স্কাইলাইট, দেওয়াল বা বেড়ার ছোট্ট ফাঁক দিয়ে গলে যেতে পারে অনায়াসে!

গত বারো বছর এ লাইনে আছে বিড়াল। আজ পর্যন্ত এক বারও পুলিশের হাতে পড়েনি!

কিন্তু সত্যি বলতে কী, এমন চুরি-ছ্যাঁচড়ামি করতে ওর মন চায় না। তাই তো পগাদাকে বলছে ওই দোকানটার কথা। পগাদা বলেছে ওর জন্য আর দু’মাস ধরে রাখবে গ্যারেজটা। তার মধ্যে টাকার জোগাড় না-করতে পারলে পগাদাকে যেন আর সে দোষ না দেয়!

দোষ কাউকেই দেয় না বিড়াল। ছোটবেলায় বাবা মাকে হারিয়ে এক রকম অনাথের মতো মামার বাড়িতে মানুষ হয়েছে।

দাদ্দুই ওকে নামিয়েছে এই লাইনে। রীতিমত ভোকাল টনিক দিয়ে, ইতিহাস ঘেঁটে, চুরিও যে মহান শিল্প আর বিশাল নামওয়ালা অনেক মানুষ যে এই কাজ গর্বের সঙ্গে করেছে ও করছে, সব বুঝিয়েছে। বুঝিয়েছে এই সব শারীরিক গুণাবলি ভগবান বিড়ালকে সুপারহিরো হওয়ার জন্য দেয়নি!

কিন্তু তাও এটা ভাল লাগে না বিড়ালের। দাদ্দুর কথা মতো এটা যদি শিল্পই হয়, তা হলে হাততালি দেওয়ার লোক থাকে না কেন! ওরও তো ভাল মানুষ হতে ইচ্ছে করে! এক দিন একটা দারুণ ভাল মানুষের মতো কাজ করতে ইচ্ছে করে! পেটের দায়ের চেয়ে মনের দায়টাকে এক দিন বেশি গুরুত্ব দিতে ইচ্ছে করে!

শুনশান বাড়িটা দেখে থাবার বদলে জিভ চাটল বিড়াল। এ বাড়িতে যা পাবে তাতে মনে হয় না আর কোনও দিন ওকে এই কাজ করতে হবে। মুকুর সামনে গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে!

গত কালও বিকেলের দিকে এক বার এই বাড়িটার সামনে এসে ঘুরে গিয়েছে বিড়াল। দাদ্দু ওকে বলে দিয়েছে, বাড়ির মেন গেটটায় ইয়েল লক লাগানো রয়েছে। টান মারলে বন্ধ হয়ে যায়। বাইরে থেকে চাবি ছাড়া খোলার উপায় নেই! তাই বিড়ালকে ঢুকতে হবে বাড়ির পিছনের দিক দিয়ে। একটা স্কাইলাইট আছে। কাচের। সেটা ভেঙে ঢুকতে হবে। এক বার ঢুকে গেলে জিনিসপত্র গুছিয়ে ব্যাগে ভরে দরজা খুলে ভাল মানুষের মতো বেরিয়ে আসতে সমস্যা নেই!

বিড়াল চারদিক দেখে নিল একবার। তার পর দেওয়াল টপকে টুপ করে খসে পড়ল বাড়ির চৌহদ্দিতে।

পাথর ফেলা শৌখিন রাস্তা! চারিদিকে গাছপালা। তার মধ্যে দিয়ে মাথা নিচু করে দ্রুত এগিয়ে গেল বিড়াল।

কাচের জানলাটা ভাঙা কোন সমস্যাই হল না। একটা মোটা কাপড় হাতে জড়িয়ে সামান্য জোরে মারতেই কাচটা ভেঙে গিয়েছে। কাঠের ফ্রেমের থেকে বাকি কাচের টুকরো সরিয়ে শরীরটাকে সরু করে গলিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকতে তেমন বেগ পেতে হল না বিড়ালকে!

এটা বাথরুম। ছোট্ট একটা টর্চ জ্বালিয়ে এদিক ওদিক দেখল বিড়াল। বড় আলো জ্বালানো যাবে না! বাইরের থেকে কেউ যদি হঠাৎ দেখে ফেলে, তবেই বিপদ। ওর কাছে তালা খোলার ‘মাস্টার-কি’ আছে। কিন্তু সদরের তালা খুলতে গেলে বেশ কিছু ক্ষণ গেটের সামনে বসে কাজ করতে হত। শীতের রাত, আশেপাশে সব নিঝুম হলেও সেটা রিস্ক হয়ে যেত। তাই এ ভাবে ঘরের পিছনের জানলা দিয়ে ঢোকাই ভাল।

বাথরুম থেকে বেরিয়ে এদিক-ওদিক তাকাল বিড়াল। টর্চের আলোয় চারিদিকটা দেখে মনটা আবার ভাল হয়ে গেল। মনে হল ‘পরদেশ’ ছবির সেই ‘দো দিল মিল রহে হ্যায়’ গানটা শানুর গলাতেই গেয়ে ওঠে! সারা ঘরেই সুন্দর জিনিসে ভর্তি! টিভিটা এত বড় যেন একটা জানলা! ওঃ, আলমারিটা খুলতে পারলে কী না জানি পাওয়া যাবে!

আন্দাজে-আন্দাজে শোওয়ার ঘর কোনটা হবে ভেবে সামনে এগিয়ে গেল বিড়াল। করিডরটা সরু হয়ে এগিয়ে গিয়েছে। সেটা দিয়ে গিয়ে ডান দিকে বাঁক নিয়েই চমকে উঠল ও! সামনের ঘরটায় আলো জ্বলছে! আর সেখানে এক জন বয়স্ক মানুষ লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে!

ভীষণ ঘাবড়ে গেল বিড়াল। আরে বাড়িতে যে কেউ আছে, সেটা দাদ্দু বলেনি তো! ছুরি-টুরি সঙ্গে রাখে না বিড়াল। কিন্তু আজ এই অবস্থায় কী করবে ভেবে না পেয়ে কোমরে গোঁজা স্ক্রু-ড্রাইভারটা বের করে সামনে বাগিয়ে ধরল!   

বয়স্ক লোকটা তাকিয়ে আছে ওর দিকে। মাথায় মাংকি টুপি। গায়ে ঢোলা বাদামি সোয়েটার। পরনে লুঙ্গি!

লোকটা ওকে দেখে কাঁপা গলায় বলল, ‘তু...তুমি কে বাবা! চোর!’

‘আপনি কে?’ বিড়াল সাহস আনল। সামনে লোকটা বেশ ত্থুত্থুরে ধরনের। লাঠিতে ভর করে কাঁপছে! এত বড় বাড়িতে এমন বুড়োকে কেউ একা রেখে যায়! আজকাল ছেলে-মেয়েরা অমানুষ সব! লোকটা বলল, ‘বাবা আমার শরীর খুব খারাপ... আমার... সুগার ফল করছে... আমি...’

লোকটা কথা শেষ না করেই আচমকা পড়ে গেল মাটিতে! বিড়াল দেখল, লোকটা পেচ্ছাপ করে ফেলেছে। হাত-পা কাঁপছে। ‘জল... জল...’ বলে হাত বাড়াচ্ছে!

কী ঝামেলা! বিড়াল ভাবল পালাবে কি না। কে বুড়ো, কোথাকার বুড়ো, তার জন্য বেকার ঝামেলা নেবে কেন?

কিন্তু তার পরেই মত বদলাল। এত বয়স্ক লোক, কেউ নেই! হিসু করে ফেলেছে! একে এ ভাবে ফেলে রেখে যেতে মন চাইছে না। সেই দারুণ ভাল মানুষের মতো কাজটা আজকেই করতে
ইচ্ছে করছে!

‘দাদু, দাদু!’ স্ক্রু-ড্রাইভারটা কোমরে গুঁজে এগিয়ে গেল বিড়াল। ঝুঁকে পড়ে লোকটার হাত ধরল, ‘উঠতে পারবেন?’

‘নার্সিং হোম! কাছেই... আমি যাই ওখানে... আমি... প্লিজ হেল্প... ভয় নেই... প্লিজ...’ মানুষটা অস্ফুটে বলল।

সর্বনাশ! একে নার্সিং হোমে নিয়ে যেতে হবে! এখন! কিন্তু লোকটা যে ভাবে নেতিয়ে পড়ছে, তা ছাড়া তো উপায়ও নেই! ‘দাদু, ও দাদু।’ বিড়াল ঠেলল, ‘আপনি উঠতে পারবেন?’

লোকটা চোখ খুলল সামান্য, মাথা নাড়ল। তার পর কষ্ট করে হাতটা তুলে আলমারি দেখিয়ে বলল, ‘টাকা... নার্সিং হোমে... টাকা...’

স্বাভাবিক! ভর্তি করতে হলে তো টাকা লাগবেই!

‘চাবি কই দাদু? ও দাদু!’ বিড়াল দেখল, লোকটা আবার নেতিয়ে গিয়েছে। চোখও খুলছে না! কী কেলো! টেঁসে গেল নাকি! শালা দাদ্দু! এক বার পেলে বাপের বিয়ে দেখিয়ে ছাড়বে! শীতের মধ্যেও ঘেমে গেল বিড়াল। লোকটার নাকের কাছে হাত নিয়ে গেল। নাঃ, নিশ্বাস পড়ছে! কিন্তু অজ্ঞান। কী করবে ও এখন!

দ্রুত সিদ্ধান্ত নিল বিড়াল। তার পর পকেট থেকে মাস্টার-কি বের করে এগিয়ে গেল আলমারির দিকে। ওর টেনশন হচ্ছে, কিন্তু ভালও লাগছে। জীবনে আজ প্রথম আলমারি ভাঙছে কোনও ভাল কাজে। মুকুর মুখটা মনে পড়ে গেল ওর। কোনও ভাল কাজ করলেই মুকুর কথা মনে পড়ে বিড়ালের। অবশ্য খারাপ কাজ করলেও পড়ে!

মিনিট চারেকের চেষ্টায় আলমারিটা খুলে ফেলল বিড়াল। আর খুলেই চমকে গেল। ওরে বাবা, পাঁচশো টাকার বান্ডিল! তিনটে! দেড় লাখ! ও এক বার বুড়োর দিকে তাকাল! নেতিয়ে আছে মানুষটা! ঠোঁট কামড়ে ভাবল এক বার, পালাবে?

‘আঃ!’ লোকটার জ্ঞান ফিরল।

পাশে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগে টাকাগুলো ভরল বিড়াল। নাঃ, এই অবস্থায় চুরি করা যায় না।

‘নার্সিং হোম... আমার জামা কাপড়...’ লোকটা হাত তুলল।

বিড়াল দেখল, আর একটা ব্যাগ রাখা আছে পাশে। সময় নষ্ট না করে দ্রুত খাটের ওপর রাখা কিছু জামাকাপড় ব্যাগে ভরে ও তাতে টাকার প্লাস্টিকটাও ঢোকাল। নার্সিং হোমে লাগবে তো!

‘চলুন।’ বৃদ্ধকে হাত ধরে তুলল বিড়াল। দেড় লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগটা তুলে গলায় ঝোলাল। এখন শুনশান রাতে রাস্তায় ট্যাক্সি পেলে হয়!

আজ ভগবান সঙ্গে আছে বিড়ালের। নড়বড়ে লোকটাকে কোনও মতে ধরে রাস্তায় এনে দাঁড়াবার একটু পরেই একটা ট্যাক্সি পেয়ে গেল। কাউকে ছাড়তে এসেছিল। তবে এটা হলুদ ট্যাক্সি নয়। এখনকার ফোন থেকে বুক করা স্টাইলিশ ট্যাক্সি!

লোকটা ওদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিজেই গাড়ি থামিয়েছে!

নার্সিং হোম কিছুটা দূরে। বয়স্ক মানুষটা কেমন নিঃসাড়ে পড়ে আছে পিছনের সিটে। মারা গেলে বিশাল কেস খাবে বিড়াল।

গাড়িটা নার্সিং হোমের বাউন্ডারির সামনে দাঁড় করিয়ে দ্রুত নামল বিড়াল। শুনশান রাস্তা। শুধু একটা মাতাল এক পাশে বসে ঝিমোচ্ছে!

মনে মনে বিড়াল ঠিক করে নিয়েছে, লোকজন ডেকে এনে বুড়োকে ওদের হাতে দিয়ে কেটে পড়বে। ও কে, কী ভাবে চিনল বুড়োকে, এ সব প্রশ্ন এলেই মুশকিল! তা ছাড়া বুড়ো বিপাকে পড়ে ওর সাহায্য চাইছে। তাজা হয়ে যে ওকে পুলিশে দেবে না, তার গ্যারান্টি নেই!

গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে একটু বুড়োকে দেখতে বলে নার্সিং হোমে ঢুকল বিড়াল। সব ঘুমোচ্ছে। রিসেপশনে শুধু একটা ছেলে ফোন নিয়ে নিচু গলায় হাসি মুখে পুটুর-পুটুর করছে!

‘এমারজেন্সি, তাড়াতাড়ি।’

বিড়ালের হইচইয়ে চারটি ওয়ার্ড বয় স্ট্রেচার নিয়ে ট্যাক্সির দিকে দৌড়ল ওর সঙ্গে। লোকটাকে ওরা যখন স্ট্রেচারে তুলবে, সেই ফাঁকে ও চোঁ-চাঁ দৌড় দেবে। রুগিকে তো আর ফেলে দেবে না ওরা! তা ছাড়া, টাকা তো আছেই ব্যাগে!

সামান্য এগোতেই ট্যাক্সির ড্রাইভারকে আসতে দেখল বিড়াল।

লোকটা দূর থেকেই উত্তেজিত গলায় বলল, ‘আরে এত দেরি করছেন! দাদু তো হেঁচকি তুলছেন!’

সেরেছে! সকলে গাড়ির দিকে ছুটল।

বিড়াল গাড়ির সামনে গিয়ে সময় নষ্ট না করে দরজা খুলে ফেলল। কিন্তু তার পরেই থমকে গেল! বাকিরাও দাঁড়িয়ে পড়ল ওর পিছনে! এটা কী দেখছে ও? গাড়ির ভিতরটা ফাঁকা! কেউ নেই! শুধু লাঠিটা পড়ে আছে! বয়স্ক মানুষ, দেড় লাখ টাকার ব্যাগ, কিচ্ছু নেই! এটা কি ম্যাজিক!

বিড়াল পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল! এটা কী হল!

আশেপাশে তাকাল বিড়াল। মাতাল লোকটা ওদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে শুধু। আর কী অবাক, মাতালটার মাথায় ওই বুড়োর মাংকি টুপি!

মাতালটা হাসছে, জড়ানো গলায় বলছে, ‘দাদু বলল, চুরি শিখেছ, অভিনয় শেখোনি খোকা!’

রাত নিশুত হচ্ছে কলকাতায়। মাতালের হাসির টুকরো স্প্লিন্টারের মতো গেঁথে যাচ্ছে ওর শরীরে। কুমার শানুর কোনও গান মনে পড়ছে না আর। শুধু শীত পাচ্ছে! আজ এই রাতে দাঁড়িয়ে বিড়াল বুঝতে পারছে, শীত পাওয়া আসলে কাকে বলে!